কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ

কুষ্টিয়ায় শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মিথ্যা সম্পদ বিবরণী দাখিলের অভিযোগে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রশীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার সকালে কুষ্টিয়ার জেলা দায়রা জজ বিশেষ আদালতের বিচারক শেখ আবু তাহেরের আদালতে দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক নীল কমল পাল এ সংক্রান্ত এজাহার জমা দেন। আদালত এজাহারটি আমলে নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দুদকের কৌঁসুলি আল মুজাহিদ হোসেন মিঠু।

দুদকের করা মামলার আসামি শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রশীদ (৫৬) রাজবাড়ীর পাংশার নারায়ণপুর গ্রামের প্রয়াত রওশন আলীর ছেলে। তার বর্তমান ঠিকানা ৪১/১, এসএ টাওয়ার, চাঁদ মহাম্মদ রোড, থানাপাড়া, কুষ্টিয়া।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১০-১১ থেকে ২০২০-২১ সাল পর্যন্ত কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন আবদুর রশীদ। এ সময় তিনি এখতিয়ারবহির্ভূত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ পন্থায় আর্থিক সুবিধা নিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থবিত্তের অধিকারী হন। দুদকের পর্যবেক্ষণে তার কয়েক কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে তার শনাক্তকৃত জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩২৬ টাকার। যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে অপরাধের শামিল।

শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের কৌঁসুলি আল মুজাহিদ হোসেন মিঠু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুদকের সব মামলাই চূড়ান্তভাবে আদালতে দাখিলের আগে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও বিচক্ষণতার সঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তারা তদন্ত করেন। শুধু যেসব ক্ষেত্রে তদন্তে সত্যতা আছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয় সেগুলোই চূড়ান্ত মামলা হিসেবে রেকর্ডপূর্বক তা আদালতে দাখিল করা হয়। এ মামলার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়েছেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।’

দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রশীদের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে উল্লিখিত জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ছাড়াও আরও কয়েক কোটি টাকার সম্পদের তথ্য রয়েছে। যেগুলোর পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়াধীন।’

এদিকে কুমারখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রশীদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা করার খবরে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্যে মিষ্টি খাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ইব্রাহিম হোসেন নামে এক স্কুলশিক্ষক তার মোবাইল ফোনে ধারণ করা এ সংক্রান্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

মামলার বিষয়ে জানতে শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রশীদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।