‘সিলেটে ছাত্রলীগের শীর্ষ চার পদ ৩০ লাখ টাকা করে বিক্রি হয়েছে’

প্রায় ৪ বছর কমিটিবিহীন থাকার পর অবশেষে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে। উভয় শাখায় কেবল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে সিলেট ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা দাবি করছে শীর্ষ ৪টি পদ প্রতিটি ৩০ লাখ টাকা করে বিক্রি হয়েছে।

মঙ্গলবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করা হয়।

 জেলা কমিটিতে সভাপতি নাজমুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন রাহেল সিরাজ। আর মহানগর কমিটিতে সভাপতি কিশওয়ার জাহান সৌরভ ও সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হয়েছেন নাঈম আহমদ। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের শীর্ষ পদের প্রত্যাশী ৬ নেতাকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

তারা হলেন, জাওয়াদ ইবনে জাহিদ খান, বিপ্লব কান্তি দাস, মুহিবুর রহমান মুহিব, কনক পাল অরূপ, হোসাইন মোহাম্মদ সাগর ও সঞ্চয় পাশী জয়। তবে জাহিদ খান ও মুহিবুর রহমান কেন্দ্রীয় সদস্য পদ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তারা সিলেটে রাজনীতি করেন, তাই তারা সিলেটের কমিটিতে পদ চান। 

এদিকে কমিটি ঘোষণার পরই সিলেটে পদবঞ্চিত নেতা কর্মীরা কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ করেছেন। তারা সড়ক অবরোধ করে, টায়ারে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।

এ ছাড়া জেলা কমিটির নতুন সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজের বাসায় হামলার ঘটনাও ঘটেছে। পদবঞ্চিতরা বলছেন, টাকার বিনিময়ে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ দেওয়া হয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ দাবি করেছেন, জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের ৪টি শীর্ষ পদের প্রতিটি ৩০ লাখ টাকা করে মোট ১ কোটি ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। কমিটি প্রত্যাখ্যান করে মিছিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সামাদ এই দাবি করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, সিলেট নগরের টিলাগড়ে ছাত্রলীগ কর্মী ওমর মিয়াদ হত্যাকাণ্ডের পর ২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। আর সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর ২০১৮ সালের অক্টোবরে বিলুপ্ত করা হয়েছিল মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি। এরপর থেকে কমিটি ছাড়াই চলছিল সিলেট ছাত্রলীগ। তবে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার অনুসারী হিসেবে গড়ে ওঠা বিভিন্ন গ্রুপ-উপগ্রুপে সক্রিয় ছিলেন নেতা কর্মীরা।

কমিটি ঘোষণার পর যে সব বলয়ে পদ এসেছে তারা উচ্ছ্বসিত। অন্যদিকে পদবঞ্চিত বলয়ের নেতা কর্মীরা বিক্ষোভে মেতেছেন।  

ঘোষিত কমিটি প্রত্যাখ্যান করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দলের একাংশের নেতা কর্মীরা। নগরের তেলিহাওর থেকে মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌহাট্টায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। মিছিলকারীরা সড়ক অবরোধ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশও করেন।

বিক্ষোভকারীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।