দুমকিতে ঝুঁকিপূর্ণ আয়রন সেতুটি এলাকাবাসীর মরণ ফাঁদ!

পটুয়াখালীর দুমকিতে কার্গোর ধাক্কায় বেঁকে যাওয়া লেবুখালী ভাড়ানী খালের ওপর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ আয়রন ব্রিজটি এখন এলাকাবাসীর মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সাপ্তাহিক বাজারের শতাধিক ব্যবসায়ী-হাটুরে লোকজন ও সরকারি হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধশত শিক্ষক কর্মচারী এবং দেড় সহস্রাধিক শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর নিত্য পারাপারের ঝুঁকিপূর্ণ আয়রন সেতুটিতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

এলজিইডি কর্তৃপক্ষ অবশ্য ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটিতে না ওঠার নির্দেশযুক্ত সাইনবোর্ড দিয়ে রাখলেও তা কেউ আমলে নিচ্ছে না। ২ কি.মি. দূরত্বের বিকল্প পথ ঘুরে যাওয়ার বিড়ম্বনা এড়াতে সবাই জীবনের ঝুঁকি সত্ত্বেও কাঁৎ হয়ে পড়া আয়রন সেতুটি ব্যবহার করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের গোড়ার দিকে একটি মালবাহী কার্গোর সঙ্গে ধাক্কা লেগে লেবুখালী বাজার সংলগ্ন ভাড়ানী খালের ওপর পুরোনো আয়রন ব্রিজটির মাঝামাঝি দুটি খুঁটি ও এ্যাঙ্গেল দুমড়ে-মুচড়ে একদিকে কাত হয়ে ঝুলে পড়ে। তাৎক্ষণিক এলাকাবাসী ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় কার্গোটি আটকে সেতু মেরামতের জন্য ৭০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়।

আরও জানা যায়, পরবর্তীতে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ওই টাকায় মেরামতের নামে কয়েকটি নাট-বল্টু লাগিয়ে জোড়াতালি দিয়ে দেয়া কয়েক দিনেই ফের নড়বড়ে হয়ে যায়। বর্তমানে আয়রন সেতুটি পারাপারকালে দুলতে থাকে। এ অবস্থায় সেতুটির পূর্বপাড়ে লেবুখালী হাবিবুল্লহ সরকারি মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি দাখিল ও একটি নুরানি মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থীসহ ব্যবসায়ীরা সেতুটি ব্যবহার করলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী সেরাজ উদ্দিন শরীফ অভিযোগ করে জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুটির এমন দুরবস্থা হলেও তা কেউ দেখছে না। বারবার আবেদন করলেও উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের টনক নড়ছে না। তারা দায় এড়াতে সেতুর গোড়ার দিকে সাইনবোর্ড দিয়ে লোকজন পারাপারে নিষেধ করছেন কিন্তু সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

আরেক বাসিন্দা জাকির হোসেন মোল্লা জানান, এ সেতুটি এখন কয়েকজন লোকের আয়ের খাত হয়েছে। কার্গো, ট্রলার ধাক্কায় ক্ষতিপূরণ আদায় এবং মেরামতের প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দ এনে পকেট ভরছে-কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

লেবুখালীর স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সালাম ডাক্তার বলেন, আয়রন সেতুটি ভেঙে তদস্থলে নূতন একটি ঢালাই সেতু নির্মাণের কথা শুনছি। এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে ইতিমধ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে উপজেলা প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে তা বলতে পারছি না।

 লেবুখালী সরকারি হাবিবুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহ-প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান আশ্রফ বলেন, বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকাবাসীর সহজ পথের সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হলেও পারাপার হচ্ছে। আয়রন সেতুটি ভেঙে ফেললে জনভোগান্তি বেড়ে যাবে।

লেবুখালী সরকারি হাবিবুল্লহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নিষেধ সত্ত্বেও তার বিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সময় বাঁচানোর জন্য এ সেতু পারাপার হচ্ছে। অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার পাশাপাশি নতুন আরেকটি সেতু নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী দাবি করছেন।

দুমকি উপজেলা প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে আমরা সেতুটির ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় স্কিম পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে দুমকি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ বলেন, সেতুটি অতি পুরোনো হওয়ায় ইতিপূর্বে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে উভয় তীরে সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়েছে এবং জনসাধারণ চলাচলে নিষেধ করা হয়েছে।