চট্টগ্রামে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র : মিলার

চট্টগ্রামে বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা ও ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার। তিনি বলেছেন, বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের চোখ চট্টগ্রামের দিকে। যুক্তরাষ্ট্রও চট্টগ্রামে বিনিয়োগে আগ্রহী। গতকাল বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে তার দপ্তরে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন তিনি।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার বলেন, চট্টগ্রামের পরিচিতি, কদর, গুরুত্ব ও খ্যাতি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। আমরা বিশ্বাস করি এখন যেভাবে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে এবং হচ্ছে তাতে চট্টগ্রাম অচিরেই রিজিওন্যাল ও গ্লোবাল কানেক্টিভিটির কার্যকর যোগসূত্র হিসেবে সংযোজিত হবে। এখানে যে সব অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠেছে তাতে বিশ্বের বড় বড় অর্থনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে তার ইতিবাচক প্রভাব শুধু বাংলাদেশ বা অঞ্চলগত নয়, বৈশ্বিকভাবে প্রতিফলিত হবে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত এসময় চসিক মেয়রের কাছ থেকে মিয়ানমার থেকে আগত বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের অবস্থা ও সমস্যা এবং কভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতি বর্তমানে কী অবস্থায় ও কোন স্তরে আছে তা জানতে চান।

এ সময় চসিক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত অকৃত্রিম আগ্রহে চট্টগ্রাম এখন বৈশ্বিক সম্পদে পরিণত হচ্ছে। কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত টানেল চট্টগ্রামকে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’-এ পরিণত করতে যাচ্ছে। রেলপথ কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারিত হলে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত যোগাযোগ সংযোগের দ্বার খুলে যাবে। মিরসরাই ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো শিল্পায়নের ক্ষেত্রে চমক দেখাবে। সমগ্র চট্টগ্রামই পর্যটন শিল্পের দ্যুতি ছড়াবে। তাই দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি করে দিতে পারাটাই আমাদের এখন বড় কাজ ও দায়বদ্ধতা। এই কাজটা সম্মিলিতভাবেই করতে হবে। এজন্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তির সহায়তা ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে আমরা অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ওপর জোর দিতে চাই। করোনা প্রতিরোধে টিকা সরবরাহসহ সার্বিক সহযোগিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের প্রতি চসিক মেয়র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদুল আলম, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাউন্সিলর ফর পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স স্কট এ ব্র্যান্ডন, ইকোনমিক অ্যান্ড কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট শাহীনুর সিকদার, ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী, অতি. প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী প্রমুখ।