কোমায় সন্তান জন্ম দেওয়ার অনন্য অভিজ্ঞতা

২০২১ সালের জানুয়ারি মাস, সুলতানা তখন ৩১ সপ্তাহের গর্ভবতী। ফলে তখন তিনি কভিড-১৯-এর টিকা নিতে পারেননি। আক্রান্ত হন করোনায়। জরুরি ভিত্তিতে ভর্তি করা হয় হাসপতালে। সেখানে তাকে কোমায় নিয়ে করা হয় সি-সেকশন। ভূমিষ্ঠ হয় তার যমজ দুই কন্যাসন্তান। কিন্তু সুলতানা তখন কিছুই জানেন না। দীর্ঘদিন পরে জ্ঞান ফেরে তার। ৪১ দিন পর সন্তানদের দেখেন সুলতানা। সম্প্রতি তিনি সেই অভিজ্ঞতার গল্প শুনিয়েছেন বিবিসিকে।

বিবিসি জানাচ্ছে, ৩৪ বছর বয়সী এ নারী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরই প্রথম লন্ডনের লুটন হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। সেখানেই ডাক্তাররা তাকে দেখে জরুরি সি-সেকশনের সিদ্ধান্ত নেন। সুলতানা বলেন, ‘কভিডে আক্রান্ত হওয়ার পর আমার মনে হতো দম বন্ধ হয়ে আসছে। আমি শান্ত হয়ে ঠিকঠাক শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করতাম, কিন্তু লাভ হতো না। তারা আমাকে কোমায় নিয়ে যান। আমি যখন ঘুমে ছিলাম, আমার দুই সন্তানের তখন জন্ম হয়। অথচ আমি তখন কিছুই টের পাইনি। আমি জানতেও পারিনি আমার সন্তানরা পৃথিবীতে এসেছে।’

বিবিসিকে সুলতানা জানান, ৪১ দিন পর তিনি তার সন্তানদের দেখতে পান। তারা তাকে ও সন্তানদের আলাদা জায়গায় রেখেছিলেন। দুই মেয়ের জন্মের পর তার শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। পরে তাকে নেওয়া হয় কেমব্রিজের একটি হাসপাতালে। আর দুই মেয়ে ছিল লন্ডনের লুটন হাসপাতালেই।

সুলতানা বলেন, ‘আমার শারীরিক অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছিল। ডাক্তাররা আমার জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। তাদের ধারণা ছিল আমি হয়তো কখনই আর ফিরব না। আবার তাদের একটা আশাও ছিল। কিন্তু তার জন্য দরকার ছিল স্পেশাল সেবা, স্পেশাল চিকিৎসা আর স্পেশাল মানুষ।’

তিনি বলেন, ‘এজন্য আমার বোধ কিছুটা ফেরার পরেই আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে আমার সন্তানদের কি জন্ম হয়েছে? হলে তারা কোথায়? পরে আমার স্বামী আমাকে ভিডিও কলে মেয়েদের দেখিয়েছে। তখন আমি কান্না ধরে রাখতে পারিনি।’

দ্য রয়াল কলেজন অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস ও এনএইচএস ইংল্যান্ড বলছে, যেসব গর্ভবতী নারী কভিডে আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের অনেকের অবস্থা সংকটজনক হচ্ছে, সংখ্যাটা দিনে দিনে বাড়ছে। সে কারণে গর্ভবতী নারীদের কভিডের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।