আলোচনা সভায় ফখরুল

সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চক্রান্ত করছে

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। কিন্তু সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চক্রান্ত করছে। কুমিল্লার ঘটনা তারই প্রমাণ।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার ক্ষেত্রে দেশে একটা স্থিতিশীল অবস্থা রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের যে দুর্গাপূজা হচ্ছে, সেই দুর্গাপূজায় কতগুলো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে বিশেষ করে কুমিল্লায় ও চাঁদপুরে। চাঁদপুরে তিনজন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে এবং নির্বিচারে গুলি করেছে। এটা এ সরকারের চক্রান্ত। তারা এ দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়, ধবংস করতে চায় এবং দেশে স্থিতিশীলতার নষ্ট করতে চায়। জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে নিতে চায়। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং একই সঙ্গে অবিলম্বে প্রকৃত অপরাধী যারা তাদের গ্রেপ্তার করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচন বাংলাদেশে এখন হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছে। ২০০১ সালের পর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশে যে প্রেক্ষাপট আছে তাতে একটা নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচন কমিশন কিছুই করতে পারবে না, সম্ভব না। সেই কারণে আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি যে, আগে পদত্যাগ করো এবং একটা নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা দাও।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ কোথাও বিএনপিকে সভা-সমাবেশ করতে না দেওয়ার ঘটনা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নব্বইয়ের আন্দোলনের নেতাদের একটা অনুষ্ঠান ছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে। সেখানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন তা তারা সহ্য করতে পারল না। তার পরদিন থেকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সরকারের তথ্যমন্ত্রী কথা বলতে শুরু করলেন খুব অন্যায় হয়েছে, বেআইনি হয়েছে। তারেক রহমান তো সেই আট হাজার মাইল দূর থেকে একটা বক্তব্য দিয়েছেন। আপনারা এত ভয় পাচ্ছেন কেন। তার বক্তব্য প্রচার করা যাবে না, তার ছবি ছাপা যাবে না, তার কথা শোনানো যাবে না।। আসলে সরকার দুঃস্বপ্ন দেখে এই বোধহয় এসে গেল এবং দিবাস্বপ্ন দেখে দিনের বেলা ভয় পায় এই বুঝি আমাদের চেয়ার বোধহয় গেল, গদি বোধহয় গেল।’

সংগঠনের সভানেত্রী অধ্যক্ষ নূর আফরোজ বেগম জ্যোতির সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার প্রমুখ।