ঈদে মিলাদুন্নবী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘জশনে জলুশ’ পালন বন্ধের আহ্বান

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীতে ‘জশনে জলুশের’ আয়োজন শরিয়তসম্মত নয় দাবি করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে তা পালন না করার আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতপন্থী কওমি আলেমদের শীর্ষ নেতারা। গতকাল শুক্রবার দুপুরে শহরের পশ্চিম মেড্ডায় দারুল আরকাম মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তারা। এ সময় করোনা মহামারী বিবেচনায় ওই কর্মসূচি বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনার পাশাপাশি আয়োজনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে, সেদিকেও জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান আলেম-ওলামারা। কর্মসূচিতে লিখিত বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মুবারক উল্লাহ বলেন, ‘আগামী ২০ অক্টোবর কতিপয় বিদআত বিশ্বাসী লোকজন তথাকথিত জশনে জলুশ করতে যাচ্ছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের এক ব্যক্তি ঈদে মিলাদুন্নবীর নামে জশনে জলুশ আবিষ্কার করেন। মুসলমানদের ইমান-আকিদাহ বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে এই জশনে জলুশ পাকিস্তান থেকে আমদানি করা হয়েছে। জশনে জলুশ যেহেতু ইসলামের আলোকে শরিয়তসম্মত নয়, তাই করোনাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জশনে জলুশ যেন কেউ পালন না করতে পারে; সে জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। জশনে জলুশের নামে কেউ যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিও আহ্বান জানাচ্ছি।’

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হাক্কানি আলেম-ওলামাদের স্মৃতিধন্য পুণ্যভূমি। ফখরে বাঙ্গাল তাজুল ইসলাম (র.), বড় হুজুর সিরাজুল ইসলাম (রহ.) ও মুফতি নুরুল্লাহ তাদের অন্যতম। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এখানকার মুসলমানরা ইসলামের নামে নিত্যনতুন কুসংস্কার ও বিদআতে লিপ্ত হয়নি কখনো। তারা কোরআন, হাদিস মেনে ধর্মীয় এবাদত-বন্দেগি করে যাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে দারুল আরকাম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা সাজিদুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তাজ মো. ইয়াছিন, হেফাজত নেতা মাওলানা আলী আযম, মুফতি এনাম্লু হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।