চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে দুই শিশুসন্তানসহ সুমিতা খাতুন নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে আড়াই বছর বয়সী পুত্র চানবাবুসহ মায়ের মৃতদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং ৭ বছর বয়সী মেয়ে জান্নাত আরার লাশ পাওয়া যায় খাটের ওপর শোয়ানো অবস্থায়। এ ঘটনায় সুমিতা খাতুনের স্বামী সোহেল রানাকে আটক করেছে পুলিশ।
সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোখলেসুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আটক সোহেল রানাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পারিবারিক কলহের জের ধরে সুমিতা দুই সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, সুমিতা খাতুনের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানা এলাকায়। ১০ বছর আগে একই এলাকার সোহেল রানার সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তার। নগরের মুরাদপুরে সোহেল রানার একটি ইউনানি হারবাল ওষুধের দোকান আছে। কন্যা জান্নাত আরা ও পুত্র চান মিয়াকে নিয়ে মোহাম্মদ এলাকায় এস এস টাওয়ারের নিচতলায় একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন তারা।
গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টার সময় পাঁচলাইশ থানা পুলিশ বাসার দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সুমিতা খাতুন ও চান মিয়ার এবং বিছানায় জান্নাত আরার লাশ দেখতে পায়। পরে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর দুপুর ১টার দিকে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, স্বামী সোহেল রানা বৃহস্পতিবার রাতে বাসায় গিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ পান। অনেক ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় রাত ২টার দিকে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। ওই সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও বাড়ির মালিকের অনুরোধে ফিরে যায়। এ সময় সোহেল রানাকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। শুক্রবার সকালে তাকে সঙ্গে নিয়ে বাসার দরজা ভেঙে লাশগুলো পাওয়া যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, স্বামীর পরকীয়ার কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ হতো প্রায় সময়। এর জের ধরেই পুত্র-কন্যাকে নিয়ে সুমিতা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।