পূজামণ্ডপে হামলার প্রতিবাদে শাহবাগে সমাবেশ

বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমাবেশ হয়। সেখানে বক্তারা দ্রুত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে মুখে কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভকারীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুরোধে তারা সরে যান। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

এদিকে গতকাল বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নাগরিক সমাবেশ করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। সমাবেশ থেকে আগামী ১৯ অক্টোবর সম্প্রীতি রক্ষা দিবস পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট, পূজামণ্ডপে হামলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে ওইদিন সারা দেশের সংস্কৃতিকর্মীরা কর্মসূচি পালন করবেন।’

নাগরিক সমাবেশে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, সাংবাদিক আবেদ খান, অধ্যাপক আবদুস সেলিম, নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি মিনু হক, চারুশিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী, সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি ঝুনা চৌধুরী, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, ‘রামু, নাসিরনগরের পরও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলা হয়েছিল। এসব ঘটনায় বিচার হলে এমনটি হতো না। সরকারে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ থাকলেও সমাজ হয়ত মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির হাতে চলে গেছে। সমাজকে নেতৃত্ব দিচ্ছে মৌলবাদী গোষ্ঠী। এভাবে আপস করে চললে তাদের হাতে আমরা কেউই নিরাপদ থাকব না। ফলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ কোন পথে থাকবে, এ বিষয়ে আমাদের গভীরভাবে ভাবতে হবে।’

শাহবাগের সমাবেশে পংকজ দেব নাথ এমপি বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এদেশের মানুষকে অতীতে ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করা যায়নি, আগামীতেও যাবে না। মণ্ডপে হামলা-ভাঙচুর ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির মধ্য দিয়েই বসবাস করবে। যারা বিভেদ-বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করতে হবে।’

পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্তের সভাপতিত্বে সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জি, অধ্যাপক তাপস মণ্ডল, অধ্যাপক চন্দ্র নাথ সরকার, শ্যামল রায়, রঞ্জন কর্মকার প্রমুখ বক্তব্য দেন।