আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুই সদস্য পদপ্রার্থীর সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষে চার জন নিহত হওয়ার ঘটনায় মাগুরা জগদল মাঝিপাড়ায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শুক্রবারের সহিংসতার পর হামলা আর গ্রেপ্তার আতঙ্কে একের পর এক গ্রাম ছাড়ছে মানুষ। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও লুটপাটের আশঙ্কায় যে যা পারছেন তাই নিয়েই সরছেন নিরাপদ স্থানে। গতকাল শনিবার ওই এলাকায় গিয়ে প্রায় সব বাড়ি পুরুষশূন্য দেখা গেছে।
এদিকে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে চার জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশগুলো হস্তান্তর করে প্রশাসন। পরে সন্ধ্যা ৬টায় জানাজা শেষে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে স্থানীয় কবরস্থানে লাশগুলো দাফন করা হয়।
মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াছিন কবীর জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নিহতদের লাশ সন্ধ্যায় তাদের পরিবারের সদস্যরা জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করেছে। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এলাকায়। গ্রামবাসী নারী-পুরুষ তাদের বাড়ির আসবাবপত্র ধান, চাল, গবাদি পশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে ছুটে যাচ্ছেন। জগদল গ্রামের সুমন মিয়ার স্ত্রী সান্তনাকে দেখা গেল তল্পিতল্পাসহ গ্রাম ত্যাগ করতে। তাকে জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলেন, আমার স্বামীসহ পরিবারের পুরুষ সদস্যরা গতকালই বাড়ি ছেড়েছে। আমি মেয়ে মানুষ বাড়িতে একা অবস্থান করায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলাম। পুনরায় হামলা ও লুটতরাজের ভয়ে আসবাবপত্র-চাল-ডাল নিয়ে গ্রাম ছাড়ছি।
জগদল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, এর আগে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই দুই গ্রুপের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে বসে তিনি ও স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্যদের নিয়ে মীমাংসা করে দেন। এরপর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে পুনরায় তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হলে এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটে।
মাগুরা সদর থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম জানান, চার জন নিহতের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাগুরা সদরের জগদল গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শুক্রবার জগদল ইউনয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার নজরুল ইসলাম ও সৈয়দ আলী হাসান সমর্থিত দু’গ্রুপের সংঘর্ষে চার জন নিহত হয়। উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়।