গাজীপুরের শ্রীপুরে টাকা চুরির অপবাদ দিকে ঘরের ভেতরে আটকে দড়ি দিয়ে বেঁধে (১৫) এক কিশোরকে নির্মম শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত কিশোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শনিবার কাওরাইদ ইউনিয়নের নয়া পাড়া গ্রামে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় দুজনকে অভিযুক্ত করে কিশোরের বাবা রবিবার রাতে শ্রীপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিশোর তেলিহাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ৫৩ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ এনে নয়াপাড়া গ্রামের দুলাল উদ্দীনের দুই ছেলে কাজল মিয়া ও লিটন মিয়া ঘরে আটকে কিশোরকে দড়ি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় শরীরে গরম রডের ছ্যাঁকা দেয়া হয় কিশোরের শরীরে ।
নির্মম নির্যাতন শিকার কিশোর জানান, তার ওপর নির্মম নির্যাতন করেছে কাজল ও লিটন দুই ভাই মিলে। তাদের টাকা চুরি করেছি এমন অপবাদ দিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়।
তিনি বলেন এ সময় কাজল বেদম মারধর করে। পরে লিটন দড়ি দিয়ে হাত পা বেঁধে লোহার গরম রডে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছ্যাঁকা দেয়। অনেক আকুতি মিনতি করেও কোনো রক্ষা হয়নি। তাদের নির্যাতন চলছে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী।
নির্যাতনের শিকার কিশোরের বাবা বলেন, ওই দিন বেলা ১১টার সময় অভিযুক্তরা ফোন করে বলে আপনার ছেলে টাকা চুরি করেছে। এরপর টাকা চুরির কথা স্বীকার করেছে। আমাকে ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে এসে ছেলেকে আনতে বলে। এরপর টাকা না নিয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে পৌঁছানোর পর টাকা না আনার আগ পর্যন্ত ছেলেকে দেবে না বলে। একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজনের হাতে পায়ে ধরে টাকা দেয়ার শর্তে ছেলেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসি।
তিনি আরও বলেন, একদিন ভয়ে ভয়ে বাড়িতে ছেলের চিকিৎসা করি। এরপর স্থানীয় ইউপি সদস্যকে ঘটনার জানালে তিনি পুলিশের আশ্রয় নিতে বলেন। আমি এই পাশবিক নির্মম নির্যাতনের বিচার চাই।
এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, এক কিশোরকে মারধরের ঘটনা শুনেছি। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার কিশোরের বাবার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।