যুবলীগ চেয়ারম্যান অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশের কণ্ঠ ও মোবাইল নম্বর ক্লোন করে প্রতারণার অভিযোগে ফিরোজ খন্দকার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত সোমবার রাত ১টার দিকে গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের সাইবার ক্রাইম তদন্ত বিভাগ।
গতকাল মঙ্গলবার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সাইবার ক্রাইম বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ধ্রুব জ্যোর্তিময় গোপ দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারের আগে প্রতারণার মাধ্যমে ফিরোজ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। যুবলীগ চেয়ারম্যানের মোবাইল নম্বর ক্লোন করে তিনি বিভিন্ন জেলার যুবলীগ নেতাদের ফোন করে দলীয় কর্মীর চিকিৎসার জন্য টাকা চাইতেন। তার দেওয়া বিকাশ ও রকেট নম্বরে টাকা আসার পর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে বিভিন্ন বুথ থেকে তুলে নিতেন ফিরোজ।
রাজধানীর খিলখাঁও এবং কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন বুথ থেকে টাকা ওঠানোর সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাকে শনাক্ত করে সিটি সাইবার ইন্টারনেট রেফারেল টিম। পরে প্রযুক্তির সাহায্যে ফিরোজকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। যুবলীগ চেয়ারম্যানের নম্বর ক্লোনের ঘটনায় মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা রয়েছে বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
যুবলীগের নেতারা জানান, ফিরোজ ফোন করে সরাসরি টাকা চাইতেন না। চেয়ারম্যানের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির কথা বলে টাকা দাবি করে বিকাশ ও রকেট নম্বর দিতেন। চেয়ারম্যানের নম্বর থেকে কল পেয়ে তারা উৎফুল্ল হয়ে তড়িঘড়ি টাকা পাঠাতেন। বিভিন্ন নেতার কাছ থেকে ফোন পেয়ে শেখ পরশ প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে নম্বর বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে পোস্ট দেন। এ ছাড়া গত ১৫ অক্টোবর যুবলীগ চেয়ারম্যানের পক্ষে বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন ব্যারিস্টার রানা তাজউদ্দিন খান।
গত ৯ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশের নম্বর ক্লোন করে গাইবান্ধা যুবলীগের সভাপতি সরদার মো. শাহীদ হাসান লোটন, নেত্রকোনা যুবলীগের আহ্বায়ক মাসুদ খান জনি, সুনামগঞ্জ যুবলীগের আহ্বায়ক খায়রুল হুদা চপল, সিলেট মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিক জায়গীরদার, পাবনা যুবলীগের আহ্বায়ক সনি বিশ্বাসসহ বিভিন্ন এলাকার যুবলীগ নেতাদের ফোন করা হয়।