চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার মনছুরিয়া এলাকায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় ঘটনাস্থলে একজন, চমেক হাসপাতালে একজন নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় চারজন রক্তাক্ত জখম হলে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। অপরদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানার সামনে এসে এক যুবক বিষপান করে।
বুধবার দুপুরের বাঁশখালী পৌরসভা ও শীলকুপ ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মনছুরিয়া বাজারের পাশে রংগিয়াঘোনা এলাকার এ ঘটনা ঘটে।
হামলার ঘটনায় ঘটনাস্থলে নিহত হন আবদুল খালেক (৩৪) পরে চমেক হাসপাতালে মারা যান সুলতান মাহমুদ টিপু (২৪)। তারা সম্পর্কে আপন চাচা-ভাতিজা।
এ সময় সংঘর্ষে গুরুতর আহত তিনজন হলেন নিহত সুলতান মাহমুদ টিপুর বাবা মো. কামাল উদ্দিন, চাচা মঞ্জুর আলম এবং মো. বাহাদুর।
এ ঘটনায় তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে বাঁশখালী থানা পুলিশ। আটকদের একজনকে নির্দোষ দাবি করে আটকের প্রতিবাদে থানায় এসে বিষপান করেন রাসেল ইকবাল নামে এক তরুণ। তিনি আটক মাহমুদ সিদ্দিকের ছেলে। রাসেল ইকবাল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক।
বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক সঞ্জয় নাথ বলেন, ‘ঘটনার পর গুরুতর আহত পাঁচজন এসেছিলেন। তাদের মধ্যে আবদুল খালেক মৃত ছিলেন। আহতদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া একই ঘটনার জেরে বিকাল ৪টার দিকে বিষপান করা রাসেল ইকবাল নামে একজনকে নিয়ে আসা হয়। তাকেও গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠনো হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সকহারি পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. হুমায়ুন কবিরসহ পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
বুধবার রাত সাড়ে নয়টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বলে থানা সূত্রে জানা যায়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হলে ও তাদের জানাযা কখন হবে তা জানা যায়নি।
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল উদ্দীন বলেন, বুধবার পারিবারিক বিরোধের জের মনছুরিয়া রংগিয়াঘোনা এলাকায় দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ছুরিকাহত হয়ে আব্দুল খালেক নামে একজনের ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়। সুলতান মাহমুদ টিপু নামে অন্য একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মৃত্যু হয়। এ সময় দুই পক্ষের ৪ জন গুরুতরসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়।
তিনি আরো বলেন, ঘটনার পর আমরা ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছি।