চীন তাইওয়ানে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র রক্ষা করবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। চীন-তাইওয়ান সাম্প্রতিক উত্তেজনার ভেতরেই তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
বাইডেনের এমন মন্তব্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত তাইওয়ান ইস্যুতে তাদের দীর্ঘদিনের নীতি থেকে বেরিয়ে এলো। চীন আক্রমণ করলে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে রক্ষা করবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ‘হ্যাঁ, তাইওয়ানকে রক্ষার ব্যাপারে আমাদের প্রতিশ্রুতি আছে।’ তবে বাইডেনের এমন মন্তব্যের পরে হোয়াইট হাউজের এক মুখপাত্র কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, তাইওয়ান ইস্যুতে জো বাইডেনের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় না।
অবশ্য তাইওয়ানের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে আসছে চীন। তাইওয়ানকে নিজেদের একটি প্রদেশ মনে করে পেইচিং। অন্যদিকে চীনের প্রদেশ নয়; বরং নিজেকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র বলে মনে করে থাকে তাইওয়ান। তাইওয়ান পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ, যা তাইওয়ান প্রণালির পূর্বে চীনা মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে চীন বারবার তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করে আসছে দ্বীপটি।
চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে চার দিনে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সীমানার মধ্যে প্রায় ১৫০টি যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল চীন। এরপর থেকেই অঞ্চলটিতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। মিত্র হলেও তাইওয়ানকে রক্ষার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’র নীতি চর্চা করে আসছে ওয়াশিংটন। আর এ কারণেই তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও ‘তাইওয়ান রিলেশন অ্যাক্ট’ নামে একটি চুক্তি অনুসারে দ্বীপটির কাছে অস্ত্র বিক্রি করে থাকে ওয়াশিংটন। চুক্তি অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্যই তাইওয়ানকে সহায়তা করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।