নিজের কাছে থাকা বন্দুকের গুলিতে সোহরাব হোসাইন চৌধুরী (২৩) নামে বিজিবির এক সিপাহি আত্মহত্যা করেছেন। গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ময়মনসিংহের খাগডহর এলাকার ৩৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ক্যাম্পের সহকারী পরিচালক ইউনুস আলী।
সোহরাব ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বাশপাদুয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর ছেলে। মৃত্যুর আগে নিজের ফেইসবুক আইডিতে তিনি চাকরির টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিমসহ মানসিক নানা যন্ত্রণার বিষয় উল্লেখ করে গেছেন।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) ফারুক হোসেন জানান, খবর পেয়ে রাতেই লাশ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদনের পর ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিজের জন্য বরাদ্দ করা বন্দুকের গুলিতে সোহরাব হোসাইন আত্মহত্যা করেছেন।
মৃত্যুর আগে সোহরাব হোসাইন ফেইসবুকে লিখেছেন, মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নিয়ে ভালো কিছু আশা করা মহাপাপ। নামে সরকারি চাকরি কিন্তু বেতন ওই নামের ওপরই। সাত বছর চাকরি, এখনো বাড়ি গেলে ঠিকমতো কোথাও যাওয়া হয় না। ছুটির সময়ও চোরের মতো থাকতে হয়। কিছুদিন আগে আম্মু খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ওষুধ কিনব সে টাকাও হাতে নেই। পরে মামার থেকে ধার নিয়ে কিছু ওষুধ কিনে মাকে গাড়ি ভাড়া করে দিলাম।
তিনি লেখেন, প্রতিমাসেই এমন হয়। না পারি নিজের খুশিমতো কিছু কিনতে কিংবা একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে ভালো কিছু খেতে, না পারি পরিবারের চাহিদা পূরণ করতে। এর মধ্যে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সংসার চালানো কত কঠিন কাউকে বোঝানোর মতো না। ছোট ভাই শারীরিকভাবে কিছুটা অক্ষম, তার জন্য কিছু করার সুযোগ এই জীবনে হয়নি। মানুষ প্রশ্ন করে বিয়ে করি না কেন? মানুষকে তো আমার সরকারি চাকরির ভেতরটা দেখাতে পারি না। আমার বেতন, সঞ্চয় সবকিছু ভেবে অন্য কাউকে আনা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। তাই বিয়ের চিন্তা করিও না।
তিনি আরও লেখেন, শুধু খেয়েপরে বেঁচে থাকতে পারলে খুশি, তাও আর হয়ে উঠল না। সাত বছর মানসিক যন্ত্রণা আর অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে সত্যিই বড় ক্লান্ত হয়ে পড়ছি। এইবার একটু রেস্ট দরকার। পরিবার, সহকর্মী, সিনিয়র-জুনিয়র, আমার বন্ধুদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এই নিকৃষ্ট কাজের জন্য। পারলে ক্ষমা করবেন। এছাড়া বিকল্প কোনো পথ আমার ছিল না।