অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ, সুদানে গুলিতে নিহত ৭

সুদানে গত সোমবারের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজধানী খার্তুমসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজপথে নেমে আসেন বিক্ষুব্ধ জনতা। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় সেনাবাহিনী। এতে অন্তত সাত বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

বিভিন্ন স্থানে টায়ার পুড়িয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেন আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভের তীব্রতায় একপর্যায়ে খার্তুম বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সেখানে সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে। বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট ও অধিকাংশ ফোনের সংযোগ। এদিন সেনাসদস্যদের গুলিতে আহত হওয়া একজন বিক্ষোভকারী সাংবাদিকদের জানান, সেনাসদরের বাইরে তার পায়ে গুলি চালানো হয়। তিনি বলেন, সেনারা প্রথমে স্টান গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটান, তারপর গুলি ছোড়েন। আল-তায়েব মোহাম্মদ আহমেদ নামের একজন বলেন, ‘চোখের সামনে দুইজন মানুষ নিহত হয়েছেন।’

খার্তুমের একটি হাসপাতালে রক্তাক্ত পোশাক ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, এমন বহু মানুষকে দেখা গেছে। টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে বিরোধীদলীয় জোট ‘ফোর্সেস অব ফ্রিডম অ্যান্ড চেঞ্জ’ জানিয়েছে, সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।

সোমবারের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানী খার্তুমে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয়। সেনাসদস্যরা ঘরে ঘরে গিয়ে স্থানীয় বিক্ষোভের আয়োজকদের আটক অভিযানে নামে।

২০১৯ সালে দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে সরিয়ে দেওয়ার পর ক্ষমতা ভাগাভাগির দুর্বল একটি চুক্তিতে উপনীত হয় সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক গোষ্ঠীগুলো। ওই চুক্তির আলোকেই গত দুই বছর ধরে দেশটি পরিচালিত হয়ে আসছিল।