সাম্প্রদায়িক হামলা

ইন্ধনদাতাদের নাম পাওয়া গেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, কুমিল্লায় যে ছেলেটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার মতো কাজটি করেছে তাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। আমরা মনে করছি, কিছুদিনের মধ্যেই এর পেছনের কারণ জানতে পারব। কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে সহিংসতার ঘটনায় ১০টি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রংপুর- নোয়াখালীর ঘটনায় ইন্ধনদাতাদের নাম বলেছে গ্রেপ্তাররা। শিগগিরই তাদের নাম প্রকাশ করা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপে’ তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের সেক্রেটারি মাসউদুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন সভাপতি তপন বিশ্বাস।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সুপরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করতেই এ সহিংসতা ঘটানো হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে, অনেকের নাম জানা গেছে। শিগগিরই কারা এসব ঘটিয়েছে, তা উদঘাটন করা সম্ভব হবে। রংপুর ও নোয়াখালীর ঘটনায় ইন্ধনদাতাদের নাম বলেছে ধৃতরা ব্যক্তিরা। ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তারা এসব নাম জানিয়েছে। তবে আমরা শতভাগ নিশ্চিত হয়ে আপনাদের সামনে নাম প্রকাশ করব। মন্দিরে কোরআন রাখা কোনো হিন্দুর কাজ নয়, যা আমি আগেও বলেছি। আমি দায়িত্ব নিয়ে, অভিজ্ঞতা নিয়েই বলেছিলাম। শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে। কারণ কোনো হিন্দুর এ দুঃসাহস হবে না।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে বিএনপি-জামায়াত আছে কি না সেটা এখনই বলতে চাচ্ছি না। আমরা নিশ্চিত হয়েই আপনাদের জানাতে চাই। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন। তিনি বলে গেছেন এই দেশ সবার, এই দেশে ধর্ম নিয়ে বৈষম্য হবে না। এ দেশ হবে ধর্মনিরপেক্ষ। আমরা সে আদর্শই ধারণ করে চলেছি।’

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘বলপূর্বক রোহিঙ্গাদের যে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়া হলো, তার পেছনের কারণ আপনারা জানেন। আরসার (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি) পেছনে কারা রয়েছে, তাও আপনারা জানেন। তবে আমরা চাই, রোহিঙ্গারা এখানে ভালো থাকুক। তারা দ্রুত তাদের দেশে ফিরে যাক। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১১ লাখ লোক বসবাস করছে। এটি বাড়তে বাড়তে এখন শেষ সীমানায় পৌঁছে গেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে “আরসা”র কিছু যুবক নিয়মিত ঘোরাঘুরি করছে। রোহিঙ্গা নেতারা সবসময় বলেছেন, “আমরা ফিরে যেতে চাই।” হত্যা, মারামারি, দখল, আধিপত্য বিস্তার, তার ওপরে মাদক ব্যবসা, যেটা আমি সবসময় বলি। তারা বর্ডার পার হয়ে দুর্গম এলাকায় চলে যায়, আবার ফিরে আসে। এর ভাগাভাগি সব মিলিয়ে সেখানে একটা অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। যার জন্য আমরা পুলিশ, র‌্যাব, আনসার পাঠিয়েছি। আর্মির ওয়াচে রেখেছি তাদের। তারপরও বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। ক্যাম্পের ভেতরে হাঁটার রাস্তাগুলোতে সহিংসতা ঘটে। নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। যারা খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে আমরা তাদের আটকের চেষ্টা করছি। এখানে নানামুখী বিষয় রয়েছে। এদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। যারা পাঠিয়েছে তাদেরও ইন্ধন থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’