খালেদা জিয়ার বায়োপসি রিপোর্ট পাওয়া যাবে কাল

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বায়োপসি রিপোর্ট আগামীকাল বৃহস্পতিবার পাওয়া যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তার চিকিৎসকরা। গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের একজন। তিনি বলেন, ‘বায়োপসি রিপোর্ট পেতে সাধারণত ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে। সে হিসাবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ রিপোর্ট হাতে আসতে পারে। রিপোর্ট এলে বোঝা যাবে প্রকৃত অবস্থা। গতকাল সকালে হাসপাতাল গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা খালেদা জিয়াকে দেখতে গিয়েছিলেন। কথা বলেছেন তার সঙ্গে।’

ওই চিকিৎসক আরও বলেন, ‘কয়েক দিন যাবৎ খালেদা জিয়া জ¦র অনুভব করায় এবং থেমে থেমে জ¦র আসার পর গত ১২ অক্টোবর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জ¦রের কারণ বের করতে তার শারীরিক নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। একপর্যায়ে খালেদা জিয়ার অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। শেষ পর্যন্ত গত সোমবার তার অপারেশন করা হয়।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তার পুত্রবধূ শর্মিলা রহমান। তিনি নিজেই তার শাশুড়ির জন্য খাবার রান্না করে নিয়ে যান। খালেদা জিয়া পুত্রবধূর রান্না করা খাবার খেয়েছেন।

এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধায়নে একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে চিকিৎসাধীন আছেন খালেদা জিয়া। ৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বহু বছর আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস ও চোখের সমস্যায় ভুগছেন। এছাড়া করোনা-পরবর্তী জটিলতায় ভুগছেন তিনি।

এর আগে গত এপ্রিল মাসে খালেদা জিয়া বাসায় থেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। সেখানে ব্যক্তিগত বিশেষ চিকিৎসকদের চিকিৎসায় সেরে উঠলেও পোস্ট কভিড জটিলতায় গত ২৭ এপ্রিল তাকে এভারকেয়ার হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। প্রায় দুই মাস তিনি সিসিইউতে চিকিৎসা নেওয়ার পর গত ১৯ জুন মেডিকেল বোর্ড বাসায় নিয়ে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে ছাড়পত্র প্রদান করে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুর্নীতি মামলায় দ-িত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ২০০৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবাসের পর গত বছর ২৫ মার্চ মানবিক বিবেচনায় সরকার তাকে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি দেয়। এরপর থেকে তিনি গুলশানে তার ভাড়া করা বাসা ফিরোজায় থাকছেন। খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার অনুমতি চেয়েছিল তার পরিবার। তবে সরকার বলেছে, সাময়িক মুক্তির শর্ত অনুযায়ী তাকে দেশে রেখেই চিকিৎসা দিতে হবে।