চীনের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র

চীনের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ চেয়ারম্যান মার্ক মিলি ব্লুমবার্গ নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

চীনের এ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাকে মার্ক মিলি স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘স্পুৎনিক’ পরীক্ষার সঙ্গে তুলনা করেন। চীনের সামরিক বাহিনীর দ্রুত প্রসার ঘটছে বলেও জানান তিনি।

চীন গত আগস্টে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে বলে ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’ পত্রিকা প্রাথমিকভাবে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ খবরে ওয়াশিংটনে উদ্বেগ দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা রীতিমতো ‘চমকে গেছেন’ বলেও জানানো হয়।

তবে চীন পরে পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করে জানায়, এটি একটি নিয়মিত মহাকাশযানের পরীক্ষা ছিল।

সম্প্রতি ব্লুমবার্গ টিভিকে মার্ক মিলি বলেন, ‘আমরা যা দেখতে পেয়েছি তা হলো হাইপারসনিক অস্ত্র ব্যবস্থা পরীক্ষার বড় একটি ঘটনা। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্নায়ুযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন যেমন স্পুৎনিক মহাকাশে পাঠিয়েছিল, এটিও তেমন ঘটনা কিনা তা আমি জানি না। তবে এটি তার খুব কাছাকাছি ঘটনা। এ ঘটনা আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।’

হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিতে যায়। ফলে তা রাডারে ধরা পড়া এবং মোকাবিলা করা কঠিন। ভবিষ্যৎ যুদ্ধের ক্ষেত্রে এ অস্ত্র মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্রও হাইপারসনিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করছে। গত সপ্তাহে ভার্জিনিয়ার নাসা কেন্দ্রে তারা তিনটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে।

১৯৫৭ সালে স্পুৎনিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন, যা দেখে বিস্মিত হয়ে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তাদের মনে হয়েছিল, প্রযুক্তির দিক দিয়ে সোভিয়েতরা এগিয়ে যাচ্ছে।