মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহনসহ ফেরি উল্টে যাওয়ার ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চলেছে। গত বুধবার রাতে তল্লাশি স্থগিত রাখার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা এবং ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর কয়েকটি ডুবুরি দল ফের কাজ শুরু করে। গতকালের অভিযানে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আংশিক ডুবে যাওয়া ফেরিটি থেকে একটি কাভার্ড ভ্যান এবং ভাটিতে থাকা ডুবন্ত ৪টি কাভার্ড ভ্যান উদ্ধার করা হয়। তবে উল্টে যাওয়া ফেরি শাহ আমানত উদ্ধারে কোনো অগ্রগতি নেই।
এদিকে যানবাহনসহ ফেরি উল্টে যাওয়ার ঘটনায় গতকাল রাত ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত কারও হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে গত বুধবার সকাল ৯টার কিছুক্ষণ পর পাটুরিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল রো রো ফেরি (বড় ফেরি) শাহ আমানত। পদ্মা পার হয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পরপরই সেটি কাত হয়ে নদীতে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার সময় ফেরিতে ছিল ১৭টি ট্রাক, একটি প্রাইভেট কার ও আটটি মোটরসাইকেল। এর মধ্যে তিনটি গাড়ি ঘাটে নেমে যেতে পারলেও বাকি বাহনগুলো ফেরির সঙ্গেই নদীতে ডুবে যায়। এর মধ্যে চারটি পণ্যবাহী ট্রাক ও পাঁচটি কাভার্ড ভ্যান গতকাল পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল সকালে পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, উদ্ধারকারী দলের ডুবুরিরা কাত হয়ে অর্ধেক নিমজ্জিত ফেরি শাহ আমানতের ভেতরে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। আর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার উল্টে যাওয়া ফেরিটি উদ্ধারের সক্ষমতা নেই বলে এটি শুধু ডুবে যাওয়া যানবাহন ওঠানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া জাহাজটির ক্রেনের রশি দিয়ে উল্টে যাওয়া ফেরিটি বেঁধে রাখা হয়েছে।
উদ্ধারকারী আরেক জাহাজ প্রত্যয় ১৪১ কিলোমিটার উজানের নদীপথ পাড়ি দিয়ে চাঁদপুর থেকে গত বুধবার পাটুরিয়ার দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও সেটি গতকাল রাত পর্যন্ত এসে পৌঁছায়নি। কখন পৌঁছাবে তা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌসংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পরিচালক মো. শাজাহান দেশ রূপান্তরকে জানান, চাঁদপুর থেকে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় পাটুরিয়া ফেরিঘাটের পথে রয়েছে। তবে দুর্ঘটনাকবলিত রো-রো ফেরিটির যে ওজন তাতে দুটি জাহাজসমেত চেষ্টা করেও সফল হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। প্রত্যয় পাটুরিয়ার ঘটনাস্থলে আসার পরই দুর্ঘটনাকবলিত ফেরিটি উদ্ধারের কাজ শুরু করা যাবে বলেও জানান তিনি।
উদ্বারকারী জাহাজ হামজার কমান্ডার এস. এম সানোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হামজার সক্ষমতা ৬০ টন আর প্রত্যয়ের ২৫০ টন। সব মিলিয়ে হচ্ছে ৩১০ টন। আর ফেরি শাহ আমানত শাহর ওজন ৪৮০ টন। অর্থাৎ দুটি জাহাজ মিলেও উদ্ধার তৎপরতা সম্ভব নয়।’
ফায়ার সার্ভিসের মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী উপ-পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের তিনটি ইউনিট অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছে। আগে ট্রাকগুলো উদ্ধার না করে ফেরি উদ্ধারের কাজ শুরু করা সম্ভব নয়।’
এদিকে গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাত্র ৫টি যানবাহন উদ্ধার হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডুবে যাওয়া ট্রাকের চালক ও মালিকরা।
ডুবে যাওয়া একটি ট্রাকের মালিক শোয়েব বলেন, ‘প্রায় দেড় দিন অতিবাহিত হলেও আমার ট্রাকটি উদ্ধার করতে পারেনি। দ্রুত উদ্ধার না করতে পারলে আমাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।’
মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল লতিফ জানান, ফেরি উল্টে যাওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির আজ থেকে কাজ শুরু করার কথা রয়েছে।