ফিলিস্তিনের বীজ সংগ্রাহক ভিভিয়েন সানসৌর

বীজ সংগ্রাহক ভিভিয়েন সানসৌরের কাছে যেকোনো উদ্ভিদের বীজ এক-একটি সত্তা। হাজার বছর ধরে চাষ হওয়া শস্য বা গাছের বীজের ভেতরে লুকিয়ে আছে পূর্বপুরুষের কৃষিকাজের ধারা। সে ধারা টিকিয়ে রাখতে তৈরি করেছেন বীজ গ্রন্থাগার। ভিভিয়েনের তৈরি করা বীজ গ্রন্থাগার নিয়ে লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা

ভিভিয়েন সানসৌর

বেথেলহেমের পশ্চিমপ্রান্ত। দুর্গম পাথুরে অঞ্চল। পর্বতমালার ফাঁক গলে উঁকি দেয় সূর্য। সবুজ উপত্যকাঘেঁষা গ্রাম বাত্তির। পাথরের বাড়িগুলোয় মিশে আছে সবুজের আবেশ। দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে পর্বত ঘিরে দৈত্যাকার সিঁড়ির মতো লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে বাড়ি। এ অঞ্চলের দুর্গম পরিবেশে এ বাড়িগুলো মানুষ বসবাসের একমাত্র চিহ্ন। পর্বত ঘেঁষে সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে উঠে গেছে এ বাড়ি। স্থানীয় মানুষরা বাড়ির পাশের অবশিষ্ট স্থানে প্রাচীনকাল থেকেই জলপাই আর শাকসবজি চাষ করে এসেছে। বসন্তকালে এসব গাছের জন্য সেচের ব্যবস্থা করা হয়। ২০১৪ সালে বাত্তির গ্রামকে ইউনেস্কোর বিশ্বঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দেওয়া হয়। দুর্গম স্থানে ফসল ফলানো খুব সহজ কোনো বিষয় নয়। তা সত্ত্বেও এ প্রাচীন ভূখণ্ডটি বহু আগ থেকেই কৃষির জন্য জনপ্রিয়।

ভিভিয়েন সানসৌরের নেতৃত্বে স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠে একটি অভূতপূর্ব উদ্যোগ। স্থানীয় জাতের বীজ সংরক্ষণ করা শুরু করেন তিনি। স্থানীয় মানুষরা নিজ উদ্যোগে এ ডাকে সাড়া দেয়। বীজ সংরক্ষণ করার এ বিষয়টি হয়ে দাঁড়ায় সাংস্কৃতিক শেকড় সংরক্ষণের মতো। ফলে পাথুরে এলাকা তার ধূসর প্রকৃতি ধারণ করতে পারে না। সবুজের চর্চায় হয়ে ওঠে আরও সবুজ।

২০১৪ সালে এই গ্রন্থাগার তৈরির ভাবনা মাথাচাড়া দেয় ভিভিয়েনের মাথায়। ঐতিহ্যগতভাবে বেড়ে ওঠা ফিলিস্তিনি খাবারের সন্ধান শুরু করেন তিনি। সেই ভাবনার উপজাত হিসেবে উঠে আসে বীজ গ্রন্থাগার তৈরির বিষয়টি। শুরুতে স্থানীয় ভাষায় ‘বালাদি বান্দোরা’ বা ‘আমার দেশের টমেটো’ শিরোনামের একটি প্রচারণা চালান। এ প্রচারণার কারণে খরাপ্রতিরোধী স্থানীয় টমেটোর বীজ তার সংগ্রহে আসে।

এ ক্যাম্পেইনের শুরুর দিকে কৃষিজীবী পরিবারের কাছে গিয়ে বীজ চাইতেন তিনি। বেশিরভাগ লোকই তাকে বলত, স্থানীয় জাতের বীজ আর নেই। স্থানীয় জাত কোনো উদ্ভিদ হারিয়ে যেতে পারে এমনটি মানতে রাজি ছিলেন না ভিভিয়েন। স্থানীয় জাত মারা গেছে বা একেবারে হারিয়ে গেছে এ ধরনের ধারণা থেকে স্থানীয় মানুষকে বের করে নিয়ে আসতে চাইছিলেন তিনি। নিজের ধারণার ওপরে অগাধ আস্থা ছিল তার। খুঁজে বের করতে শুরু করলেন স্থানীয় জাত। কিছুদিন পরে বীজ খোঁজার বিষয়টি তার নেশায় পরিণত হলো। তিনি যা ভালোবাসেন সেটির বাস্তব রূপ দিয়ে উন্মুখ ছিলেন তিনি।

ভিভিয়েনের কাছে বীজ একটি জীবিত সত্তা। স্থানীয় জাতের বীজ হারিয়ে যাওয়ার অর্থ দাঁড়ায় স্থানীয় জাতের উদ্ভিদ হারিয়ে যাবে। পূর্বপুরুষ যে বীজ বেছে নিয়েছিলেন, যে বীজে মিশে আছে তাদের কৃষি ঐতিহ্য সে বীজ সংরক্ষণের চাওয়া আরও তীব্র হয়ে ওঠে তার। এখনো পর্যন্ত ভিভিয়েনের কাছে ৪৭ জাতের স্থানীয় বীজ রয়েছে। যেগুলোর ভেতরে উল্লেখযোগ্য বেগুনি গাজর ও খরাপ্রতিরোধী তরমুজ।

আশপাশের মানুষ ও মানুষের টিকে থাকার গল্পের মাঝখান থেকে উঠে এসেছে ভিভিয়েনের বীজ সংরক্ষণের ঝোঁক। জন্মভূমি ফিলিস্তিনের আশপাশের মানুষের সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে চা-কফির আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে, বয়স্ক মানুষের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে তিনি খুঁজে বের করেছেন বীজ সংরক্ষণের ভাবনাটি। পূর্বপ্রজন্মের মানুষদের সঙ্গে কথার ফাঁকে বেরিয়ে আসে এক-একটি জাতের স্থানীয় উদ্ভিদের গল্প। সেই গল্পের সূত্র ধরে তিনি খুঁজতে শুরু করেন বীজ। এভাবেই কয়েক ডজন হারিয়ে যাওয়ার ফল ও শাকসবজির বীজ খুঁজে পেয়েছেন। এরকমই একটি সবজি সাদা শসা। আশির দশকে এক ব্যক্তির মুখে এই সাদা শসার কথা শুনেছিলেন তিনি। স্মৃতিচারণের সময় শসার আকার, আকৃতি ও স্বাদের বিষয়টি উল্লেখ করেছিল সেই ব্যক্তি। সেই সাদা শসাটিও খুঁজে পাওয়া গেছে।

ফসল কাটার সময় প্রতিটি অঞ্চলেই একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। উৎপাদিত ফসলে লুকিয়ে থাকে পরিবারের অনেক মানুষের কৃষি অভিজ্ঞতা। ফিলিস্তিনের একটি জনপ্রিয় খাবারের নাম গালায়েত বান্দোরা। রসুন, মরিচ ও জলপাই সহযোগে তেল দিয়ে ভাজা টমেটোর একটি মশলাদার খাবার এটি। রুটির সঙ্গে পরিবেশিত হয়। ভিভিয়েন বলছিলেন, ‘আমি এত ভেবে কাজ শুরু করিনি। আমি যা চাই, যে যে সবজি আমার কাজে লাগবে সেগুলো খুঁজে বের করতে থাকি।’

যে যে বীজগুলো জেনেটিক্যালি অপরিবর্তিত, যেগুলোর উন্মুক্ত পরাগায়ন হয়েছে এমন সব বীজ স্থানীয় কৃষি তো বটেই, সারা বিশ্বের কৃষির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভিভিয়েন বিশ্বাস করেন যে, সংরক্ষিত বীজগুলো ফিলিস্তিনিদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় প্রতিটি বীজের সাহায্যে আমরা আরও স্বায়ত্তশাসন অর্জন করতে পারি।’

বীজ গ্রন্থাগার

জেনেটিক্স যত উন্নত হয়েছে ততই হুমকির মুখে পড়েছে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া কৃষির ধারা। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ধীরে ধীরে বেড়েছে, একই সঙ্গে ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে স্থানীয় কৃষি। ফলে বিজ্ঞানীদের জেনেটিক্যালি মডিফায়েড শস্য উৎপাদনে বেশি মনোযোগী হতে হয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যেও মানুষকে টিকিয়ে রেখেছে এসব জেনেটিক্যালি মডিফায়েড শস্য। কিন্তু একই সূত্র ধরে আদি কৃষির ধারা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিটি অঞ্চলের স্থানীয় বীজে মিশে আছে পূর্বপুরুষের ধারা। পূর্বপুরুষ যে বীজ বেছে নিয়েছে সে বীজই বংশানুক্রমে উত্তরপুরুষের খাদ্য জুগিয়েছে। ফলে কোনো অঞ্চলের কৃষি বা বীজ সংরক্ষণের আদিম ধারা টিকিয়ে রাখা সে অঞ্চলের বাস্তুসংস্থানের জন্য খুবই জরুরি। আদি বীজ সংরক্ষণের ভাবনা থেকেই ভিভিয়েন সানসৌর তৈরি করেছেন ফিলিস্তিনের বীজ গ্রন্থাগার।

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া কোনো বীজকে হটিয়ে যদি জেনেটিক্যালি মডিফায়েড বীজ স্থান দখল করে নেয় এটি ভিভিয়েনের কাছে রীতিমতো ট্র্যাজেডি। বছরের পর বছর বীজ সংরক্ষণ ও পুনরায় সে বীজ ব্যবহার করা ছাড়াও একটি বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। কৃষকরা চাইলেই বাজার থেকে বীজ কিনে ব্যবহার করতে পারেন। ষাটের দশকে একটি নতুন কৃষি পদ্ধতির উদ্ভব হয়। যে পদ্ধতির আওতায় কীটনাশক ব্যবহার বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়। সেই সঙ্গে জীবাণুমুক্ত বীজ ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। এসব বীজ পরে আর সংরক্ষণ বা ব্যবহার করা যায় না। বছরের পর বছর জুড়ে বীজের যত বৈচিত্র্য আর কৃষকদের কৃষিভিত্তিক জ্ঞান ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে। এভাবে তো আর চলতে পারে না। ভিভিয়েনের উদ্যোগ প্রথমদিকে ব্যক্তিগত চাওয়া থাকলেও, ধীরে ধীরে সেটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাওয়ায় রূপান্তরিত হয়। এ সামাজিক আন্দোলনে সাড়া দিয়ে বহু কৃষক এখন ফিলিস্তিনের আদি কৃষি ঐতিহ্যের দিকে ঝুঁকছেন।

প্রভাব

পশ্চিম তীরের উত্তর দিকে আল জালামাহ গ্রাম। ফিলিস্তিনে স্থানীয় জাতের তরমুজ, টমেটো, মটর ও স্কোয়াশ দিয়ে ভরা খামার বেড়েছে। বেড়েছে প্রাকৃতিক বীজ ব্যবহার ও সংরক্ষণের উদ্যোগও। স্থানীয় বহু কৃষক ভিভিয়েনের সঙ্গে দেখা করেছেন। তার চিন্তায় চমৎকৃত হয়ে তার বীজ গ্রন্থাগার থেকে বীজ নিয়েছেন এবং বীজ সংরক্ষণ কর্মশালা থেকে বীজ সংরক্ষণের আদ্যোপান্ত জানতে পারছেন। কৃষিজীবী আবু ফারহা ব্যাখ্যা করেন, ‘আমাদের নিজস্ব বীজ খুঁজে পেয়ে আমরা আনন্দিত। পূর্বপুরুষের বীজ ব্যবহারের মধ্য দিয়ে আমরা গর্বিত। কারণ পূর্বপুরুষের পরিচয় বহন করা ছাড়াও আমাদের আরও বহু পরিচয় রক্ষা করতে হয়।’

বাত্তির গ্রামের আশপাশের জমি আধুনিক ইরাক, সিরিয়া, জর্ডান ও লেবানিনের সীমান্তে অবস্থিত। এ অঞ্চলের গমের চাষ করা হতো। গম চাষের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, কিছু জাতের গম প্রায় ১০ হাজার বছরের পুরনো। ভিভিয়েনের বীজ গ্রন্থাগারের মূল কাজ বীজচক্র চালিয়ে যাওয়া। অর্থাৎ বীজ থেকে ফসল ফলানো এবং সেখান থেকে নতুন করে বীজ তৈরির প্রক্রিয়াটি জীবন্ত রাখা। ভিভিয়েনের ভাষায়, এর মধ্য দিয়ে ফসলের সঙ্গে মাটি ও পরিবেশের কথোপকথন চলতে থাকে। ধীরে ধীরে তারা বিকশিত হয়। বলা যায়, সে কথোপকথনের শেষে যে চুক্তি সাধিত হয় সে চুক্তির ফলই পরবর্তী প্রজন্মের খাবারের টেবিলে উপস্থিত হয়।

কৃষকদের অতিথিশালা

শুধু বীজ সংগ্রহ করেই থেমে নেই ভিভিয়েন। বীজ সংরক্ষণ কর্মশালার মধ্য দিয়ে স্থায়ীভাবে বীজ সংরক্ষণের উপযোগিতা বুঝিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বাত্তিরের দার আবু হাসান গেস্ট হাউজকে তৈরি করেছেন স্থানীয় কৃষকদের মিলনমেলা হিসেবে। সেখানে কৃষকরা এসে চা পানের ফাঁকে ফাঁকে মতবিনিময় করতে পারবেন। এর মধ্য দিয়ে মূল্যবান ও ঐতিহ্যগত জ্ঞানকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলা হচ্ছে। ভিভিয়েন স্বীকার করেন, কৃষি নিয়ে তার জ্ঞানের প্রায় পুরোটাই কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি পাওয়া।

তিনি বলেন, ‘আমি যা করি, তা ভালোবেসে করি। কৃষিকে ভালোবেসে যত্ন করতে উদ্বুদ্ধ করি।’ বীজ গ্রন্থাগার শুধু পূর্বপুরুষের কৃষির সঙ্গে সংযোগ ঘটায় না, এটি নিজেকে ভালোবাসতেও শেখায়। কৃষকরা এ অতিথিশালায় এলে ফাতিমা মুয়াম্মার তাদের সাহায্য করে থাকেন। শুরুতেই চা দিয়ে স্বাগত জানানো হয় তাদের। এরপর বীজ সংরক্ষণের উপযোগিতা এবং কীভাবে সংরক্ষণ করা যায় সে বিষয়টি ব্যাখ্য করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই দুই প্রজন্মের মিলনস্থলে পরিণত হয় এ স্থান। এক দল জ্ঞান দেবে, আরেক দল জ্ঞান নেবে। এ সামাজিক আন্দোলনের কারণেই স্থানীয় তরুণদের একটি অংশ কৃষিতে আগ্রহী হচ্ছেন।

ভিভিয়েন জানেন, তিনি স্থানীয় কৃষি পদ্ধতি দিয়ে প্রচলিত কৃষির সম্পূর্ণ রূপান্তর করতে পারবেন না। ঐতিহ্য রক্ষাকারী কিছু খামার টিকে থাকলেও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সেখান থেকে স্থানীয় জাতের শস্য টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করতে পারবে। শস্যের সঙ্গে খাদ্যের মেলবন্ধন জরুরি। নইলে পাজলের টুকরো মিলবে না, তৈরি হবে না একটি পূর্ণাঙ্গ রাস্তা। তাই একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনের প্রাচীন রেসিপি সংরক্ষণেও আগ্রহী। তিনি একটি ট্রাভেলিং কিচেন তৈরি করেছেন। একটি হাতে তৈরি গাড়িতে তিনি রান্নার উপকরণ নিয়ে ঘুরে বেড়ান। সেখানে রান্নার ইভেন্ট থাকে। সে রান্না ঘিরে তৈরি হয় এক-একটি আড্ডা। প্রবীণ মানুষরা সেখানে রান্না করেন, রান্নাবিষয়ক জ্ঞান দেন। ট্রাভেলিং কিচেনে আসার সময় বেশিরভাগ মানুষই নিজে হাতে চাষ করা রান্নার উপযোগী কিছু না কিছু নিয়ে আসেন। ফলে বীজ, শস্য, খাবার ঘিরে মানুষের মিথস্ক্রিয়া একটি অনন্য পর্যায়ে পৌঁছে যায়। বেশিরভাগ দিনেই প্রবীণদের গল্পে এমন সব সবজি, ফল বা খাবারের নাম পাওয়া যায় বর্তমানে সেগুলো খুঁজে পাওয়া যায় না। হারিয়ে যাওয়া সেসব প্রজাতি আবার কীভাবে খুঁজে বের করা যায় সেসব নিয়েও গল্প হয়।

সংরক্ষিত বীজ থেকে শুরু হয় সংরক্ষণচক্র। সে চক্র মানুষকে কাছে টানে, কয়েক প্রজন্মকে মুখোমুখি করে, প্রজন্মান্তরে জ্ঞানের বার্তা ছড়ায়। সে বার্তায় মুখরিত থাকে কৃষি ও কৃষির ইতিহাস, সঙ্গে থাকে মানুষের টিকে থাকার গল্প।