গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলা যাওয়া এক ছেলে শিশু তিন দিন পর বহু যাচাই বাছাইয়ের পর প্রকৃত মা-বাবার সঙ্গে বাড়িতে ফিরেছে।
শনিবার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রণয় ভূষণ দাস এ তথ্য জানান।
গত বুধবার এক নারী শিশুটিকে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনার তিন দিন পর শুক্রবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শিশুটিকে তার মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ডা. প্রণয় ভূষণ দাস বলেন, যাচাই-বাছাই করে শিশুটিকে মায়ের কাছে দিয়ে দিয়েছি আমরা। এ সময় অন্য স্বজনরাও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি জানান, শিশুটি কারাগারে জন্ম হয়েছিল। শিশুটির মা কোনো এক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। সে সময় তিনি গর্ভবতী ছিলেন। পরে কাশিমপুর কারাগারে শিশুটির জন্ম হয়। শিশু জন্মের পর থেকেই ওই নারী সামান্য মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। এ কারণেই বুধবার ৩ মাসের শিশু সন্তানকে হাসপাতালে ফেলে তিনি পালিয়ে যান। পরে ওই দিন রাতেই ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে তার স্বামী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে শিশুটি তাদের বলে দাবি করে ফেরত পাওয়ার আবেদন করেন।
তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন, তার স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন। এভাবে শিশুকে ফেলে যাওয়া অপরাধ হয়েছে বলেও চিঠিতে স্বীকার করেন। পরে উপযুক্ত প্রমাণসহ অন্য স্বজনরা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ডা. প্রণয় ভূষণ দাস জানান, শিশুটি ভালো ও সুস্থ রয়েছে। এ বিষয়টি ইউএনওকে অবহিত করা হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রকৃত মা-বাবা নিশ্চিত হওয়ার পর শিশুটিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে।