ছাত্রলীগের দুগ্রুপে সংঘর্ষ, চমেক বন্ধ ঘোষণা

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের পর অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টার দিকে আধিপত্যের জের ধরে এ সংঘর্ষ হয়। এতে তিনজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন নাইমুল ইসলাম (২০), মাহফুজুল হক (২৩) ও আকিব হোসেন (২০)। এর আগে গত শুক্রবার রাতেও দুই পক্ষের মধ্যে ছাত্রাবাসে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

চমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেনা আক্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কলেজ বন্ধ থাকবে। স শিক্ষার্থীকে আজ সন্ধ্যার মধ্যে ছাত্রাবাস ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বারবার মারামারির ঘটনায় ডা. মতিউর রহমানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পাঁচলাইশ থানার ওসি (তদন্ত) সাদেকুর রহমান বলেন, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। দুই গ্রুপের মধ্যে প্রায় সময়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অথচ পরিস্থিতি সামাল দিতে আগেই চমেক ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এরপরও দুই গ্রুপ দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পুলিশ ও চমেক সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে ছাত্রাবাসে সংঘর্ষ হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় শনিবার সকাল ৯টার দিকে আবারও সংঘর্ষে জড়ায় তারা। এতে উভয় পক্ষের তিনজন আহত হয়েছে। জানা যায়, আহতদের মধ্যে আকিব শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। আর মাহফুজ ও নাইমুল ইসলাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী।