বগুড়ার শিবগঞ্জে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক যুবকের হাত-পায়ের রগ কেটে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ সময় ২০টি বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুরেরও অভিযগ ওঠে।
আহত রবিউল ইমলাম(২৮) নিজেও আওয়ামী লীগের কর্মী।
তবে শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম রবিউলের ভাই শিমুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি হওয়ায় রবিউল ও তার পরিবার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যুবলীগ নেতা মতিউর রহমানের পক্ষে কাজ করছিল।
রবিউলের ভাই বিহার ইউপি সদস্য আবু রায়হান জানান, এবার ভোটে প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই মইদুল ও তার কয়েকজন ক্যাডার গ্রামে গ্রামে তাণ্ডব শুরু করে। গত ১৭ অক্টোবর রাতে তারা বিহার হাটে অবস্থিত বিদ্রোহী প্রার্থীর মোটরসাইকেল মার্কার অফিসে হামলা চালিয়ে দুজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে এবং হাটের ওপরে দুটি দোকান ভাঙচুর করে।
তিনি বলেন, ওই ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের হলেও পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি। আসামিরা জামিনেও ছিলেন না। রবিবার সকাল থেকে তারা বিহার বাজারে অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মারধর শুরু করে। বাধা দিলে তারা বাজার ছেড়ে বিভিন্ন পাড়ায় ঢুকে তাণ্ডব শুরু করে। একপর্যায়ে তারা আমাদের বাড়িতে হামলা করে। সেখানে থাকা আমার ভাই রবিউলকে তুলে নিয়ে দুই হাত ও ডান পায়ের রগ কেটে নাগর নদীতে তাকে ফেলে দেয়। একই সময় তাদের গ্রাম মোন্নাপাড়ার অন্তত ছয়টিসহ আশপাশের অন্তত ২০ বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
রায়হান জানান, গত ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশ্যে তার ভাই শিমুলকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে মুমূর্ষু অবস্থায় মইদুল ও তার সহযোগিরা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় ফেলে দেয়। সেখানেই মারা যান শিমুল। ওই মামলায় প্রধান আসামি মইদুল চেয়ারম্যান। এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফোন বন্ধ থাকায় চেয়ারম্যান প্রার্থী মইদুল ইসলামের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার পরপরই শিবগঞ্জ হাসপাতাল এলাকায় মইদুলকে আটকে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তিনি তার মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে গেছেন। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন আছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে।