ঢাবির শতবর্ষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি

শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বাড়ান

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা ও যোগ্যতা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ। গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

দুপুর ১২টায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বঙ্গভবন থেকে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে পাঠ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের তত্ত্বাবধানে নির্মিত শতবর্ষের তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। তথ্যচিত্র প্রদর্শনের পর দেশের বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা শতবর্ষের থিম সং পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের শেষে পুনরায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, বিশ্বজ্ঞানের সঙ্গে ব্যক্তিমনের সমন্বয় ঘটানোই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুরু থেকেই এ বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। স্বাধীনতাকামী মানুষের উদারনৈতিক মুক্ত চেতনানির্ভর ও সামষ্টিক জ্ঞানানুশীলনের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে ঔপনিবেশিক মানসিকতামুক্ত নতুন শ্রেণি সৃষ্টির পথও প্রশস্ত হয়। আর সেই পথ ধরেই এই বিশ্ববিদ্যালয় শেষ পর্যন্ত বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামেরও সূতিকাগার হয়ে উঠেছিল।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় বিস্ফোরণে সৃষ্ট ডিজিটাল বিভক্তি, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে উন্নয়নশীল বিশ্বের যে ব্যবধান সৃষ্টি করেছে তার মোকাবিলা এখন শিক্ষার প্রধান বিবেচ্য। কালের পরিক্রমায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে এর অবকাঠামো ও শিক্ষা কার্যক্রমের পরিধি। একজন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক সম্পদ, এর সুনাম একদিন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে। সেই অমোঘ বাণীকে সত্য প্রমাণ করে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গৌরব ও ঐতিহ্য নিয়ে শতবর্ষে এসে জ্ঞানের আলোর বিচ্ছুরণ ঘটাচ্ছে। মেধা ও মননে মুখরিত এই অপরাজেয় চত্বর।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল মোমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্ব দরবারে অনেক সুনাম অর্জন করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী আমাদের জাতির পিতা। আপনারা সেই বঙ্গবন্ধুর উত্তরসূরি।’

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘যাদের রক্তের বিনিময়ে তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা তাদের অনেকেই ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। এই বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে অবদান রাখার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে তৈরি করবে বলে আমার বিশ্বাস।’