শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় শায়িত হলেন অধ্যাপক রফিকুল

ঢাকার আজিমপুরের নতুন কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। গতকাল বুধবার বিকেলে তাকে বাবার কবরে সমাহিত করা হয়। এর আগে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ তার মরদেহে শ্রদ্ধা জানান।

গত মঙ্গলবার ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৭ বছর বয়সে মারা যান নজরুল গবেষক রফিকুল ইসলাম। ওইদিন রাতেই উত্তরার দশ নম্বর সেক্টরে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

গতকাল বেলা দেড়টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয় রফিকুল ইসলামের মরদেহ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম নজরুল অধ্যাপক এবং নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের প্রথম পরিচালক।

অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের ছেলে বর্ষণ ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আব্বার খুব ইচ্ছা ছিল- বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ, স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন আয়োজন দেখে যাওয়ার।’

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবর্ষ জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সচিব আবুল মনসুর, বাংলা একাডেমির পক্ষে মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, কবি নজরুল ইনস্টিটিউট, কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় (আসানসোল, ভারত), জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

পরে মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে রাষ্ট্রপতির পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আওয়ামী লীগের পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে, প্রতিটি সংগ্রামে, সংকটে তিনি ছিলেন এমন এক বাতিঘর, যিনি জাতিকে পথ দেখিয়েছেন।

শ্রদ্ধা জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, আতিকুল ইসলাম, কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী ও শিল্পী হাশেম খানও।

ড. আখতারুজ্জামান বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী বলেন, নজরুল চর্চায় তিনি যে অবদান রেখে গেছেন, তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এছাড়া শ্রদ্ধা জানায় ছায়ানট, বাংলাদেশ নজরুল সংগীত সংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, ঢাবি বাংলা বিভাগ, ঢাবি কলা অনুষদ, ঢাবি সংগীত বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ইউল্যাব পরিবার, গীতাঞ্জলি ললিতকলা একাডেমি, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট, জাতীয় কবিতা পরিষদ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ, ভাষা-সাহিত্য পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রফিকুল ইসলামের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। সেখানে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আজিমপুর কবরস্থানে বাবার কবরে দাফন সম্পন্ন হয় রফিকুল ইসলামের।