ধর্ষণচেষ্টা মামলার চার্জশিটে পরীমণির নারাজি

আশুলিয়ায় ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের (চার্জশিট) ওপর নারাজি দিয়েছেন মামলাটির বাদী আলোচিত চলচ্চিত্র নায়িকা পরীমণি। গতকাল বুধবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এর বিচারক হেমায়েত উদ্দিনের আদালতে চার্জশিট গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এদিন পরীমণি আদালতে উপস্থিত হয়ে চার্জশিটের ওপর নারাজি দেন।

অন্যদিকে নাসির ও অমি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করে। এছাড়া নারাজির আবেদনের আদেশের জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছে আদালত।

নারাজি আবেদনের জবানবন্দিতে নায়িকা পরীমণি বলেন, ‘আমার জানামতে মামলাটি ঠিকভাবে তদন্ত করা হয়নি। মামলাটির তদন্ত একতরফা হয়েছে।’

পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জানা রিফাত শুনানিতে বলেন, ‘আসামিরা জামিনের পর পরীমণিকে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। আমরা আসামি নাসির ও অমির জামিন বাতিলের আবেদন করছি। এছাড়া মামলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী, সিসি ফুটেজ ও কয়েকজনের সাক্ষী তদন্তে উঠে আসেনি। তাই আমরা চার্জশিটের ওপর নারাজি দিয়েছি।’

অন্যদিকে নাসির ও অমির জামিন আবেদন শুনানিতে তাদের আইনজীবীরা বলেন, জামিনের কোনো শর্তভঙ্গ করেননি নাসির ও অমি। তাই তাদের জামিন আবেদন করা হচ্ছে।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এছাড়া নারাজির আবেদনের আদেশ পরে দেবেন বলে জানান। এ মামলায় নাসির ও অমি ছাড়া শহিদুল আলম নামে এক আসামি পলাতক রয়েছেন।

এর আগে গত সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ চার্জশিট জমা দেন।

গত ১৪ জুন ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নাসির উদ্দিন ও তার বন্ধু অমির নাম উল্লেখ করে এবং চারজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে ঢাকার সাভার থানায় মামলা করেন পরীমণি। পরীমণির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার বন্ধু অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় করা মাদক মামলায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। গত ১৫ জুন সাভার থানার পুলিশ পরিদর্শক কামাল হোসেন তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। নাসির ও অমি মাদক মামলায় রিমান্ডে যাওয়ায় ওইদিন রিমান্ড শুনানি হয়নি। মাদক মামলায় রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর বিচারক তাদের পরীমণিকে ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টার মামলায় করা রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। ২৩ জুন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসান শুনানি শেষে তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর ২৯ জুন পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাদের ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। তখন মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

অন্যদিকে তাদের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহজাদী তাহমীদা তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।