রামপুরায় বাসে আগুন পেট্রল বোমায়!

রাজধানীর রামপুরায় বাসের চাপায় মাঈনুদ্দীন ইসলাম দুর্জয় (১৯) নামে এক ছাত্র নিহতের পর ১২টি বাস পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। এ ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় বলা হয়েছে, বাস পোড়াতে ব্যবহার করা হয় পেট্রল বোমা। মামলায় যাদের সাক্ষী করা হয়েছে তারা বলছেন, দূর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধরা প্রথমে বাস ভাঙচুর করে, এর কিছু সময় পর একদল তরুণ সেসব বাসে আগুন লাগায়। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ‘অকটেন’ভর্তি পাঁচটি বোতল উদ্ধার করার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে গত মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রামপুরা ও হাতিরঝিল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের দুটি মামলা করেছে। দুই মামলায় আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা ৮০০ জনকে। তাদের কাউকেই চিহ্নিত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এছাড়া নিহত মাঈনুদ্দীনের মা রাশিদা বেগম বাদী হয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৯৫, ৯৮ ও ১০৫ ধারায় একটি মামলা করেছে। এ মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন চাপা দেওয়া বাসের চালক সোহেল, চালকের সহযোগী চান মিয়া ও গোলাম রাব্বি। এদের মধ্যে চান মিয়া ও গোলাম রাব্বি এক দিনের রিমান্ডে রয়েছে। আর বাসের চালক সোহেল আহত অবস্থায় পুলিশ হেফাজতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গত সোমবার রাত ১০টার দিকে ডিআইটি রোড পূর্ব রামপুরা লাজ ফার্মার সামনে গ্রিন অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের চাপায় মারা যান মাঈনুদ্দীন। তিনি একরামুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আ. আহাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাত ১২টার দিকে এ ধরনের ঘটনা নাশকতার লক্ষ্যেই করা হয়। আমরা সব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত করছি।’ 

এদিকে পুলিশের মামলায় সাক্ষী রাজধানীর মগবাজারের বাসিন্দা মো. নাদিম সিকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনার সময় ওই স্থান দিয়ে মালিবাগের দিকে যাচ্ছিলাম। অ্যাক্সিডেন্টের পর তাৎক্ষণিক কিছু ছেলেকে বাস ভাঙতে দেখি। এর অন্তত ১০ মিনিট পর দেখি কিছু ছেলে লাঠিসোঁটা নিয়ে এসেছে। তাদের দেখলেই মনে হয় নেশা করে। তারাও বাস ভাঙচুর করে এবং তাদের কারও কারও হাতে থাকা কিছু একটাতে দিয়াশলাইট দিয়ে আগুন ধরিয়ে ছুড়ে মারে। এর পরপরই বাসে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে শুরু করে। তাদের অনেকের হাতে ছোট ছোট বোতল ছিল। তবে ওই বোতলে কী ছিল তা জানি না।’ 

মামলার আরেক সাক্ষী রাজধানীর মগবাজার মধুবাগের বাসিন্দা ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. নুর উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম। সেখানে ভাঙচুরের ছবিও তুলেছি। অনেকের হাতেই লাঠিসোঁটা ও বোতল দেখেছি। বাসে আগুন দেওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে গেলেও তারা বাধা দেয়।’

এ ঘটনায় ডিএমপির হাতিরঝিল থানায় করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার রাতে একরামুন্নেছা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে ২৫০ থেকে ৩০০ উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র-জনতা লাঠি, ইট, পাটকেলসহ হাতিরঝিল থানাধীন পশ্চিম রামপুরা ডিআইটি রোডে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। তারা রামপুরা কাঁচাবাজার থেকে মোল্লা টাওয়ার পর্যন্ত রাস্তায় চলা গাড়ি ভাঙচুর করে, পেট্রোল বোমা দিয়ে বাসে আগুন দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে লাঠি, ৫০০ এমএল পানির প্লাস্টিকের বোতল অকটেনভর্তি অবস্থায় পাওয়া যায়।    

এ বিষয়ে মামলার বাদী এসআই এ কে এম নিয়াজউদ্দিন মোল্লা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গেলে যে দাবর আমি খাইছি, আমারে মাইরাই ফেলত। আমি কোনো মতে প্রাণে বাঁচছি। তাদের প্ল্যান ছিল আমাদের গাড়িও ভেঙে ফেলার। ঘটনার পর রাত ৩টা পর্যন্ত সমস্ত রাস্তা পরিষ্কার করেছি। এ সময় ৫টি বোতল অকটেন ভরা অবস্থায় পেয়েছি।’  

ডিএমপির রামপুরা থানার এসআই মারুফ হোসেনের করা মামলায় অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় দুর্ঘটনাস্থলে যানবাহন ভাঙচুর ও আগুনে ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়। রামপুরা থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনার পর তাৎক্ষণিক ৪০০ থেকে ৫০০ লোক জড়ো হওয়া সন্দেহজনক বিষয়। তৃতীয় কোনো পক্ষ সুযোগ নিতে পারে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।’