ডিএনসিসির সঙ্গে পিডিবির চুক্তি সই

বর্জ্য থেকে আসবে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার বর্জ্য দিয়ে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াটের একটি নবায়নযোগ্য জ¦ালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন হচ্ছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ কিনতে চুক্তি (পিপিএ) হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ডিএনসিসির ওয়েস্ট টু এনার্জি পাওয়ার প্ল্যান্ট নর্থ ঢাকা প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সাড়ে ১৮ টাকা মূল্যে কেনার পিপিএ সই করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। পিডিবি ও ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার আমিনবাজারে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চীনের সিএমইসি। এখানে ব্যয় হবে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। ডিএনসিসি এই কেন্দ্র নির্মাণে ৩০ একর জায়গা দিয়েছে। ডিএনসিসি এলাকায় তৈরি বর্জ্য সেখানে নিয়ে পুড়িয়ে গ্যাসে রূপান্তর করা হবে। সেই গ্যাস দিয়েই চলবে বিদ্যুৎকেন্দ্র। আগামী তিন বছরের মাথায় কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। কেন্দ্রটি চালু হলে ঢাকা উত্তরের বর্জ্য থেকে পরিবেশদূষণ বন্ধ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিএনসিসি কর্র্তৃপক্ষ বলছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের অর্থ ঋণ করে আনা হবে। এ জন্য অন্তত নয় মাস সময় প্রয়োজন। অর্থ সংস্থানের পর কেন্দ্র নির্মাণে সময় লাগবে ২৪ মাস। ২৫ বছর কেন্দ্র থেকে পিডিবি বিদ্যুৎ কিনতে চুক্তি করেছে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব বিভাগীয় শহর, জেলা শহর ও পৌরসভায় দৈনিক ৬০০ টন বর্জ্য তৈরি হয়, সেখানে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বর্জ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে ঢাকার পর পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, রাজশাহীসহ সব বিভাগীয় ও পৌরসভায় বর্জ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজ করছে সরকার।’

অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘ঢাকার বর্জ্যব্যবস্থা উন্নত ও পরিবেশ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী অনেক আগেই বিদ্যুৎ বিভাগকে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আজ সেটি বাস্তবায়ন হলো।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘ঢাকাকে দূষণমুক্ত করতে রাজধানীর সব বাস আগামী তিন বছরের মধ্যে ইলেকট্রিক বাসে পরিণত করা হবে। আমরা কার্বণ নিঃসরণ কমাতে যত উদ্যেগ নিতে হয়, নেব। আমরা একটি আধুনিক পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমদ, বিদ্যুৎ সচিব মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

পরিবেশদূষণ থেকে মুক্তি পাবে ডিএনসি : ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটিতে প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার টন বর্জ্য উৎপাদন হচ্ছে। ২০১৭-১৮ সালে শুধু ঢাকা উত্তর সিটিতেই বর্জ্যরে পরিমাণ বেড়েছে ২১ দশমিক ৯৩ ভাগ।

ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ২০০৯ সালে আমিনবাজারে ৫৪ দশমিক ৮৮ একর জমিতে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়। জাইকার প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে এখানে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণার কথা থাকলেও এখনো বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। ময়লার কারণে পরিবেশদূষণ ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে ডিএনসিসির বিরুদ্ধে।

সিটি করপোরেশনের বর্জ্যর কারণে মাটি, পানি ও পরিবেশদূষণ হচ্ছে এ অভিযোগে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি রিট করলে ২০১০ সালে আমিনবাজারে ময়লা ফেলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে হাইকোর্ট। সিটি করপোরেশনের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে দুই মাস পরই ওই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় আপিল বিভাগ।

তবে স্থানীয় মানুষের অভিযোগ ছিল বর্জ্যরে কারণে আমিনবাজারের আশপাশের পানি, মাটি ও বাতাসে ভয়াবহ দূষণ ছড়িয়ে পড়েছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে সিটি করপোরেশনের কাঁধের ওপর থেকে পরিবেশদূষণের অভিযোগ নেমে যাবে। এই বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে।