আশুগঞ্জে জনপ্রিয় চেয়ারম্যানের নাম মনোনয়নে দুইয়ে প্রস্তাব, নৌকার ভরাডুবির শঙ্কা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের তালশহর ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়নের জন্য ছয়বারের মেম্বার ও তিনবারের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান আবু শামার নাম তালিকায় দ্বিতীয় নম্বরে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা গেছে। মনোনয়ন ভুলে নৌকার ভরাডুবির আশঙ্কাও করছেন তারা।

আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ উপজেলার ৮ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়নের জন্য গত বুধবার প্রার্থী তালিকা ঢাকায় পাঠানো হয়।

এর আগে ৩০ নভেম্বর ওই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দলের প্রার্থী ঠিক করতে স্থানীয় শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রে তৃণমূলের সভা হয়। কিন্তু ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া ছাড়াই ওই সভা শেষ করেন ক্ষমতাপ্রাপ্ত নেতারা।

পরদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বসে আশুগঞ্জ আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হাজী সফিউল্লাহ মিয়া, যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. আবু নাসের আহমেদ, হানিফ মুন্সি ও খোরশেদ আলম মনোনয়নের জন্য ঢাকা পাঠাতে ইউনিয়ন ভিত্তিক নামের তালিকা করেন। এ সময় জেলার দায়িত্বশীল নেতারাও সেখানে ছিলেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তালশহর ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে যে তিনজনের নাম প্রস্তাব করা হয়, তাতে ১ নম্বরে রয়েছেন একসময়ের ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সুলেমান সেকান্দর ওরফে সুলেমান মিয়ার নাম। তালিকায় ২ নম্বরে রয়েছে তালশহর ইউপির বর্তমান আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান ও এলাকার জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা আবু শামা।

এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ওই এলাকার দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। আবু শামার মতো জনপ্রিয় নেতার প্রতি এ অবমূল্যায়নে হতবাক তারা।

আবু শামা চেয়ারম্যানের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আবু শামা ১৯৭৩ সালে প্রথম তার এলাকায় মাত্র ১৯ বছর বয়সে মেম্বার নির্বাচিত হন। এরপর পরপর তিনি ছয়বার মেম্বার নির্বাচিত হন। এর মধ্যে দুইবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

এরপর ২০০৩ সালে তিনি তালশহর ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। গত নির্বাচন নিয়ে তিনি মোট তিনবার এলাকার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

আবু শামা চেয়ারম্যান বলেন, আমি তালশহর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তিনবার সহ-সভাপতি, একবার সভাপতি ও একবার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। বিগত নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ার পর এবং আমার ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ার পর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে ছাড় দিই।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এলাকার সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ আমাকে পছন্দ করে। জনগণ আমার পাশে থাকার পরও শুধু ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হাজি ছফিউল্লাহ ও যুগ্ম-আহবায়ক উপজেলা চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সী বিএনপি পরিবারের সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক নেতাকে তালিকায় ১ নম্বরে দিয়ে আমার নাম ২ নম্বরে দিয়েছে।

আবু শামা চেয়ারম্যানের ছেলে আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমির হোসেন বলেন, ছফিউল্লাহ ও হানিফ মুন্সীর পক্ষে না থাকায় এবং উপজেলা চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সীর বিভিন্ন অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে আমার বাবা সোচ্চার থাকায় তারা এবার আমার বাবাকে ঠেকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

তালশহর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন অর রশীদ বলেন, আবু শামা চেয়ারম্যান নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত। উপজেলায় অনুষ্ঠিত তৃণমূলের নেতাদের উপস্থিতিতে প্রার্থী বাছাইয়ের দিন জেলা আওয়ামী লীগ থেকে বলাও হয়েছিল দলীয় চেয়ারম্যানের নাম ১ নম্বরে যাবে। কিন্তু আবু শামা চেয়ারম্যানের নাম ২ নম্বরে গেছে শুনে দলীয় নেতাকর্মীরা ব্যথিত হয়েছেন।

আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সেলিম আহমেদ বলেন, বিগত ২৫ বছর ধরে আবু শামা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগকে আগলে রেখেছেন। তাকে তালিকায় ২ নম্বরে দেওয়ায় আমাদের খুব খারাপ লেগেছে। তার মতো যোগ্য লোক বঞ্চিত হলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সহসভাপতি নিয়াজ ফরিদ বলেন, আবু শামার মতো জনপ্রিয় ও যোগ্যতম লোককে না দিয়ে হাইব্রিড বিতর্কিত লোককে তালিকায় ১ নম্বরে দেওয়ায় নেতাকর্মীরা মারাত্মকভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে আছে।

জানতে চাইলে আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও সাবেক সভাপতি হাজি ছফিউল্লাহ বলেন, আবু শামার নিজের কার্যকলাপের কারণেই তার নাম ২ নম্বরে নাম গেছে। তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশের ব্যাপার নেই।

তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমাদের পাঁচজনকে প্রার্থী তালিকা করার ক্ষমতা দেয়। আমরা মিলেই তালিকা করেছি।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের মাধ্যমে এবং তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তালিকা কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।