রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রায় ১৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এক বছরের বেশি সময় আগে করা ওই মামলা থেকে রেহাই পেতে সম্প্রতি সমপরিমাণ টাকা বোর্ডের ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়েছে। তবে কে বা কারা এই টাকা জমা দিয়েছে তার সঠিক উত্তর মিলছে না।
জানা গেছে, দুদকের ওই মামলার আসামি আবুল কালাম আজাদ ২০১৪ সালের ১০ জুলাই রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব হন। এরপর ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি তাকে বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়। দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে ২০১৯ সালের জুনে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধান শেষে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ১৮ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় একটি মামলা করে। এতে সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে চারজন ঠিকাদার এবং অন্যরা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী। মামলার এক বছরেরও বেশি সময় পর সম্প্রতি শিক্ষা বোর্ডের অনুকূলে ব্যাংকে আত্মসাৎ করা সমপরিমাণ টাকা জমা হয়েছে। টাকা জমা দেওয়ার সময় আবেদনে এই মামলার কারণেই টাকাগুলো জমা দেওয়া হলো বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই দুর্নীতি মামলার এক আসামির নাম শওকত আলী। পেশায় তিনি ঠিকাদার। ব্যাংকে টাকা জমাকারী হিসেবে তার নামই লেখা হয়েছে। তবে শওকতের দাবি, তিনি টাকা জমা দেননি। তার নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের গ্রেটার রোড শাখায় টাকাগুলো জমা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্যাংকের ওই শাখার ব্যবস্থাপক তারিক হাসান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুদকের একটি মামলার বিবরণ দিয়ে টাকাগুলো জমা করা হয়েছে। জমাকারী হিসেবে শওকত আলীর নাম লেখা আছে। কিন্তু আমরা তাকে চিনি না। কাউন্টারে অনেক মানুষই টাকা জমা দেয়, সবাইকে চিনে রাখা সম্ভব নয়। টাকা জমা হওয়ার পর শিক্ষা বোর্ডকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে বোর্ডের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে জানানো হবে।’
গোপনে টাকা জমার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টা সম্পর্কে শুনেছি, তবে অফিসিয়ালি কোনো কাগজ পাইনি।’
এদিকে দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই মামলায় এরই মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি টাকা ফেরত দিয়ে মামলা থেকে আসামিদের দায়মুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে একটি সূত্র জানালেও কে আবেদন করেছেন তা স্পষ্ট করে জানায়নি ওই সূত্র।
টাকা জমার বিষয়ে জানতে চাইলে মামলাটির আসামি ঠিকাদার শওকত আলী বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানের পাওয়া কয়েকটি কাজ না করেও বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করা হয়। তবে সব কাজই করা হয়েছিল। এখন কে টাকা ফেরত দিয়েছে সেটা আমি বলতে পারব না। আমি টাকা দিইনি।’
একই মামলার আসামি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি অসুস্থ, ঢাকায় থাকি। আমি কোনো টাকা ফেরত দিইনি। কে টাকা জমা দিয়েছেন তাও জানি না। মামলার অন্য আসামিরাই এখন মামলা দেখে, তারা দিয়েছে কি না সেটাও জানি না।’