এবি ব্যাংকের ১৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় ব্যাংকটির সাবেক দুই এমডিসহ (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) ১৫ জনকে গ্রেপ্তারে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে তারা যাতে বিদেশে যেতে না পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
দুদকের এই মামলার ১৭ আসামির মধ্যে কারাগারে থাকা দুই আসামির জামিন প্রশ্নে রুল দিয়ে অপর ১৫ আসামির বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আদালতে আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আন্না খানম কলি। অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৫ জনকে গ্রেপ্তারে দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আর তারা যাতে বিদেশে যেতে না পারেন, সে বিষয়ে দুদক, পুলিশ ও ইমিগ্রেশনকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’
মামলার আসামিরা হলেন এবি ব্যাংকের সাবেক এমডি মশিউর রহমান চৌধুরী ও শামীম আহমেদ, এরশাদ ব্রাদার্স করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী এরশাদ আলী, এবি ব্যাংক কাকরাইল শাখার সাবেক ম্যানেজার এ বি এম আব্দুস সাত্তার, কাকরাইল শাখার সাবেক রিলেশনশিপ ম্যানেজার মো. আবদুর রহিম, কাকরাইল শাখার এসভিপি মো. আনিসুর রহমান, সাবেক ভিপি শহিদুল ইসলাম, এভিপি মো. রুহুল আমিন, ইভিপি ওয়াসিকা আফরোজ, সাবেক ইভিপি মুফতি মোস্তফা রহমান, সাবেক এসইভিপি সালমা আক্তার, এভিপি মো. এমারত হোসেন ফকির, সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলাম, এমভিপি শামীম এ মোরশেদ, কাকরাইল শাখার ভিপি খন্দকার রাশেদ আনোয়ার, এভিপি সিরাজুল ইসলাম, সাবেক ভিপি মোহাম্মদ মাহফুজ-উল ইসলাম। এর মধ্যে শহীদুল ইসলাম ও আব্দুর রহিম গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
গত ৮ জুন ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করে দুদক। এতে অভিযোগ করা হয়, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ে আসামিরা জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে জাল কার্যাদেশ তৈরি করে ৬টি কার্যাদেশের বিপরীতে ১৬৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ এবং এবি ব্যাংক কাকরাইল শাখার কর্মকর্তারা (মামলার আসামি) ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া জাল নথির মাধ্যমে আরও ১০ কোটি টাকা ঋণ প্রদান, তা উত্তোলন এবং আত্মসাৎ করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে ১৭৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।
দুদকের আইনজীবী জানান, শহীদুল ইসলাম ও আব্দুর রহিম গত সেপ্টেম্বরে হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন না দিয়ে অধস্তন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। পরে দুজন সংশ্লিষ্ট আদালতে গত ৩ অক্টোবর আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। এরপর জামিন চেয়ে দুজন হাইকোর্টে আবেদন করেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৫ আসামিকে পলাতক উল্লেখ করে আদেশের আরজি জানায় দুদক।