দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান এবং নাতনি জাইমা রহমান সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য সদ্য পদত্যাগ করা তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বিএনপি। গত সোমবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
গতকাল মঙ্গলবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, মুরাদ হাসান দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জিয়া পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে নারী সদস্যদের নিয়ে যে চরম অশালীন, অরুচিকর এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক শিষ্টাচার-বিবর্জিত সম্মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন, তার তীব্র সমালোচনা, নিন্দা ও প্রতিবাদ করা হয়। সভা মনে করে, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের নারীবিদ্বেষী, বর্ণবাদী, সমাজ ও সংবিধানবিরোধী বক্তব্যের মাধ্যমে সমগ্র নারীসমাজ এবং মানবতাকে হেয় করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুরাদ হাসানকে জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ এবং প্রকাশ্যে জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
স্থায়ী কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অংশ নেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
আইসিটি মামলা দিতে হবে গয়েশ্বর : গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘নারী সমাজকে উদ্দেশ্য করে যে ধরনের কর্মকাণ্ড ফেইসবুক এবং ইন্টারনেটে ডা. মুরাদ হাসান ছড়িয়েছেন, আইসিটি মামলা দিয়ে তাকে জেলে দিতে হবে। নারীকে অপমান করা মানে পুরো নারীসমাজকে অপমান করা।’
মুরাদ হাসানকে গ্রেপ্তার দাবি রিজভীর : দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মুরাদ হাসানকে গ্রেপ্তার করে প্রচলিত আইনে বিচারের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ব্যক্তির রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। তিনি যে কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলেছেন, সেজন্য তাকে রাজনীতি করার অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, শামা ওবায়েদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহপ্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।