চট্টগ্রামে এবার নালায় পড়ে নিখোঁজ পত্রিকার হকার

চট্টগ্রাম মহানগরীর অরক্ষিত খাল ও নালায় পড়ে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। এবার নগরীর ষোলশহর এলাকার চশমা খালে পানির স্রোতে ভেসে গেল চৌদ্দ বছরের এক কিশোর। গত সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ঘটে এই দুর্ঘটনা। নিখোঁজ কিশোর মো. কামাল হোসেন (১৪) ওই এলাকায় পথচারীদের কাছে পত্রিকা বিক্রি করত। এদিকে দুই দিনেও খোঁজ না পাওয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও কামালের স্বজনরা তাকে জীবিত উদ্ধার করা নিয়ে রয়েছেন সংশয়ে। এর আগে চলতি বছর নগরীর খালা ও নালায় পড়েন অন্তত চার জন। এর মধ্যে একজনের মরদেহ আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

গতকাল কামালের স্বজনরা দেশ রূপান্তরকে জানান, সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বৃষ্টির মধ্যে ষোলশহর চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্সের বিপরীতে চশমা খালে ভাসতে থাকা পুরাতন খেলনা নিতে নামে দুই কিশোর কামাল ও রাকিব। এ সময় দুজনই পানির স্রোতে ভেসে যায়। পরে রাকিব কোনোভাবে উঠে এলেও পানিতে তলিয়ে যায় কামাল। এ প্রতিবেদকের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রাকিব বলে, খালের পাড় দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি খেলনা ভাসতে দেখে তারা দুজন খালে নামে। পানির স্রোতে তখন দুজনই ভেসে যেতে থাকে। এর মধ্যে খালের ওপর দেওয়া একটি সেতুর পাইপ ধরে রাকিব উঠে আসতে সক্ষম হলেও কামাল পানিতে তলিয়ে যায়। উঠে আসার পর ভয়ে সে ঘটনা কাউকে না বলে চেপে যায়। রাত ৮টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন লোককে সে ঘটনা জানায়। পরে কামালের পিতাকে ঘটনা জানানোর পর তারা সারা রাত খালের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে। কিন্তু কোথাও কামালের সন্ধান পায়নি। মঙ্গলবার সকালে আবারও স্থানীয় লোকজন খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে বিকেলের দিকে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ৩টার দিকে ষোলশহরে খালের পানিতে এক কিশোর ভেসে যাওয়ার খবর পেয়ে আমাদের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গেছে। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

উদ্ধার অভিযানে যাওয়া আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ফরিদ উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিকেল ৩টায় আমাদের ফোন করে খালের পানিতে শিশু নিখোঁজের খবর জানায়। এরপর আমরা একটি টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে আসি। আমাদের ডুবুরি দলের সদস্যরা খালে নামলেও সেখানে আবর্জনার স্তূপের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। পরে বিষয়টি সিটি করপোরেশনকে জানানো হলে সেখান থেকে লোকজন আবর্জনা পরিষ্কার করা শুরু করেছে। আবর্জনা তুলে ফেলার পর উদ্ধার অভিযান চালানো হবে।’

নিখোঁজ কামালের পিতা মো. কাউসার মজুরি করে সংসার চালান। মাঝেমধ্যে ফুটপাতে পত্রিকা বিক্রি করেন। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ‘আমার চার সন্তানের মধ্যে সবার ছোট কামাল। ওদের মা নেই। আমি এদের নিয়ে ফুটপাতেই থাকি। কাল রাত থেকে খালের বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করেছি, কিন্তু পাইনি। আজ লোকজন ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিয়েছে। তারা এসেও আমার ছেলের খোঁজ পায়নি। জানি না ছেলেকে আর পাব কি না।’

গত ৩০ জুন ষোলশহর চশমা হিল এলাকায় একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা খালে পড়ে গিয়ে মারা যান চালক সুলতান ও যাত্রী খাদিজা বেগম। পরে গত ২৫ আগস্ট মুরাদপুর এলাকায় নালায় পড়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন ছালেহ আহমদ নামের এক ব্যক্তি। আজও তার সন্ধান মেলেনি। এছাড়া ২৮ সেপ্টেম্বর নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় খালে পড়ে মারা যান সেহরিন মাহবুব সাদিয়া নামে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী।