আমিনবাজারে ৬ ছাত্র হত্যা

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে

রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারের আমিনবাজারে ডাকাত আখ্যা দিয়ে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ১৩ জনের ডেথ রেফারেন্স (দন্ড অনুমোদনের নথি) হাইকোর্টে এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘গত মঙ্গলবার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে এসেছে।’ ফৌজদারি বিধান অনুযায়ী কোনো মামলায় বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদন্ডের রায় হলে তা কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এটিই ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি দন্ডপ্রাপ্ত কারাগারের আসামিরা আপিলের সুযোগ পান। গত ২ ডিসেম্বর ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত আলোচিত এই মামলার রায় দেয়। রায়ে ১৩ জনকে মৃত্যুদন্ড ও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং ২৫ জনকে খালাস দেয় আদালত। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আবদুল মালেক, সাঈদ মেম্বার, আবদুর রশিদ, ইসমাইল হোসেন রেফু, নিহার ওরফে জমশের আলী, মীর হোসেন, মজিবর রহমান, আনোয়ার হোসেন, রজুর আলী সোহাগ, আলম, রানা ও আ. হামিদ, আসলাম মিয়া।

২০১১ সালের ১৭ জুলাই পবিত্র শবেবরাতের রাতে আমিনবাজারের বরদেশি গ্রামের কেবলারচরে ঘুরতে যান ছয় বন্ধু। রাত ১টার দিকে তাদের ডাকাত আখ্যা দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ম্যাপল লিফের ‘এ’ লেভেলের ছাত্র শামস রহিম শামাম (১৮), মিরপুর বাঙ্লা কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তৌহিদুর রহমান পলাশ (২০), একই কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ইব্রাহিম খলিল (২১) ও উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র কামরুজ্জামান কান্ত (১৬), তেজগাঁও কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র টিপু সুলতান (১৯) ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সিতাব জাবির মুনিব (২০)। তাদের সঙ্গে থাকা আরেক বন্ধু আল-আমিন গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাণে বেঁচে যান।