দেশে করোনার টিকা দেওয়ায় গতি বেড়েছে। টিকার শুরুর পর গত ১১ মাসের মধ্যে প্রথম ৯ মাসে যে পরিমাণ টিকা দেওয়া হয়েছে, তা শেষ দুই মাসের টিকাদানের সমান। প্রথম ৯ মাসে দুই ডোজ মিলে মোট টিকা দেওয়া হয় ৫ কোটি ৪১ লাখ ১৯ হাজার ২৪৬ ডোজ। সেখানে গত দুই মাসেই (৯ অক্টোবর-৯ ডিসেম্বর) টিকা দেওয়া হয়েছে ৫ কোটি ৪২ লাখ ১১ হাজার ৪৭৩ ডোজ।
মোট টিকার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রথম ৯ মাসে প্রথম ডোজ দেওয়া হয় মোট প্রথম ডোজের ৫৫ শতাংশ, সেখানে শেষ ২ মাসে দেওয়া হয় ৪৫ শতাংশ। একইভাবে যেখানে প্রথম ৯ মাসে দেওয়া হয় মোট দ্বিতীয় ডোজের ৪২ শতাংশ; সেখানে গত দুই মাসে দেওয়া হয় আরও বেশি, অর্থাৎ ৫৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস-২০২০ অনুসারে দেশের (প্রাক্কলিত) জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার। তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ১৩ কোটি ৫২ লাখ ৮৮ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। সে হিসেবে, সরকার বর্তমানে যে হারে টিকা দিচ্ছে, তাতে মোট টিকার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে আরও এক বছর সময় লাগবে। তবে এই টিকাদানের মধ্যে আগের মতোই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি রাখতে হবে বলে মনে করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা।
সর্বশেষ গত ৯ ডিসেম্বরের সরকারের কভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান সংক্রান্ত দৈনিক তথ্য বিশ্লেষণ করে টিকাদানের এই চিত্র উঠে এসেছে। দেশে গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়।
টিকা সম্পন্ন হয়েছে ৩১ শতাংশের : গত ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলে মোট টিকা দেওয়া হয়েছে ১০ কোটি ৮৩ লাখ ৩০ হাজার ৭১৯ ডোজ। এর মধ্যে প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৬ কোটি ৬২ লাখ ৮৭ হাজার ৩৯৬ জন এবং দুই ডোজ (সম্পূর্ণ টিকা) পেয়েছেন ৪ কোটি ২০ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৩ জন। সে হিসেবে সরকারের মোট টিকাদান লক্ষ্যমাত্রার ৩১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ মানুষের দুই ডোজ টিকা সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ মানুষ।
শেষ দুই মাসে সর্বোচ্চ টিকা : শুরুর চেয়ে শেষ দুই মাসে টিকাদানে গতি অনেক বেড়েছে। টিকার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৯ অক্টোবর থেকে ৮ নভেম্বর, অর্থাৎ এই এক মাসে দুই ডোজ মিলে মোট ২ কোটি ৬৯ লাখ ৫৮ হাজার ৭৩১ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এ সময় প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ ৩৫ হাজার ৫১৬ ডোজ ও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ ২৩ হাজার ২১৫ ডোজ। এর পরের মাসে অর্থাৎ ৯ নভেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট টিকা দেওয়া হয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ ৫২ হাজার ৭৪২ ডোজ। এর মধ্যে প্রথম ডোজ ১ কোটি ৭১ লাখ ৭২ হাজার ৯৩৪ ও দ্বিতীয় ডোজ ১ কোটি ৭৯ হাজার ৮০৮ ডোজ। অর্থাৎ এই দুই মাসে মোট (দুই ডোজ মিলে) টিকা দেওয়া হয়েছে ৫ কোটি ৪২ লাখ ১১ হাজার ৪৭৩ ডোজ।
অন্যদিকে গত ৭ ফেব্রুয়ারি টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পর ৯ মাসে মোট টিকা দেওয়া হয়েছে ৫ কোটি ৪১ লাখ ১৯ হাজার ২৪৬ ডোজ। এর মধ্যে প্রথম ডোজ রয়েছে ৩ কোটি ৬১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৪৬ ও দ্বিতীয় ডোজ ১ কোটি ৭৯ লাখ ৪০ হাজার ৩০০ ডোজ। সে হিসেবে প্রথম ৯ মাসে যে পরিমাণ টিকা দেওয়া হয়েছে তা শেষ দুই মাসের টিকার সমান।
বেশি টিকা সিনোফার্মের : সরকার দেশে করোনার চার ধরনের টিকা দিচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেওয়া হয়েছে চীনের সিনোফার্মের টিকা। এই টিকা মোট দেওয়া হয়েছে ৭ কোটি ৯১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৩৩ ডোজ। এর মধ্যে প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৪ কোটি ৭৭ লাখ ৫৩ হাজার ১৩০ জন এবং দুই ডোজ পেয়েছেন ৩ কোটি ১৪ লাখ ১ হাজার ৮০৩ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দেওয়া হয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। এই টিকা মোট দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৪৯ হাজার ২৫৭ ডোজ। এর মধ্যে প্রথম ডোজ পেয়েছেন ১ কোটি ২৭ লাখ ৫৯ হাজার ৮৬৯ জন এবং দুই ডোজ ৬৯ লাখ ৮৯ হাজার ৩৮৮ জন। এরপর মডার্নার টিকা দেওয়া হয়েছে ৫৩ লাখ ৪০ হাজার ৯৫২ ডোজ। এর মধ্যে প্রথম ডোজ পেয়েছেন ২৭ লাখ ১৫ হাজার ৬১২ জন ও দ্বিতীয় ডোজ ২৬ লাখ ২৫ হাজার ৩৪০ জন। সবচেয়ে কম দেওয়া হয়েছে ফাইজার টিকা ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫৭৭ ডোজ।