আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে আসক

বিচারের দীর্ঘসূত্রতা মানবাধিকার সংকুচিত করছে

বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তসহ ১৮ দফা দাবি জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর আসাদ গেটে আড়ংয়ের সামনে মানববন্ধন থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংস্থাটির ভাষ্য, হত্যা, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো ঘটনাগুলোর বিচার না হওয়ায় দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতিকে সংকুচিত করছে।

মানববন্ধনে ১৮ দফা দাবি তুলে ধরেন আসকের জ্যেষ্ঠ ডকুমেন্টালিস্ট ঝর্ণা খানম। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বছরের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুমের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতন, মতপ্রকাশ ও মুক্তচিন্তার ওপর আঘাত, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া, ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা, দুর্নীতির আধিক্য এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার বিধানের ক্ষেত্র সংকুচিত করে তুলছে।’

মানববন্ধনে আসকের পরিচালক নীনা গোস্বামী বলেন, ‘বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ড হতে পারে না। মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যেতে হবে। সব ধরনের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

আসকের ১৮ দাবি : বিচারবহির্ভূত হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীব্যক্তিদের শাস্তি ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠন। এছাড়া গণমাধ্যম ও নাগরিকদের মতপ্রকাশের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি করা হয়। নাগরিকের সমবেত হওয়ার অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকারও আহ্বান জানানো হয়। ধর্মীয় উত্তেজনা তৈরি করে কোনো সহিংসতার ঘটনা যেন না ঘটে তার জন্য পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়। বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিজ বিশ্বাস ও রীতি চর্চার অধিকার এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। করোনার টিকা ও বুস্টার ডোজ গ্রাম ও শহরের সব শ্রেণির মানুষকে সমতার ভিত্তিতে প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।