বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পার্লামেন্টের সদস্য ইভান স্টিফানেস। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে ওই চিঠির অনুলিপি পাঠান বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।
ইভান স্টিফানেস তার চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে লেখেন, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যাপারে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করার জন্য আমি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনাকে অনুরোধ করছি।’
তিনি লেখেন, ‘৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারে বন্দি করা হয়েছিল। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিনি ছিলেন একমাত্র বন্দি। ২০১৯ সালের এপ্রিলে তাকে সেখান থেকে স্থানান্তর করে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয় একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে। ২০২০ সালের মার্চ মাসে যখন কভিড-১৯ মহামারী শুরু হয়, তখন তাকে ছয় মাসের জন্য জেল হাসপাতাল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল এই শর্তে যে তিনি তার বাড়িতে থাকবেন। বেগম খালেদা জিয়া সন্তোষজনকভাবে শর্ত পালন করায় এই নির্বাহী আদেশ আজ পর্যন্ত নবায়ন করা হয়েছে।’
ইভান আরও লেখেন, ‘আমি লক্ষ করি যে, ২০১৯ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্ট ‘বাংলাদেশ সরকারকে বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়োজনীয় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার অনুমতি দিতে’ অনুরোধ করেছে।’
তিনি লেখেন, ‘বর্তমান মিডিয়া রিপোর্টগুলো ইঙ্গিত করে যে খালেদা জিয়ার পরিবার বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি আবেদন জমা দিয়েছে, যেখানে তার শর্তসাপেক্ষ মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো এবং জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুসারে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা ‘অবণতি’ হচ্ছে।’
ওই এমপি লেখেন, ‘খালেদা জিয়ার ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যের অবস্থার আলোকে আপনাকে এবং আপনার সরকারের কাছে খালেদা জিয়ার পরিবারের অনুরোধটি মঞ্জুর করার এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার আবেদন করছি।’
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি চিঠিতে লেখেন, ‘আমরা লক্ষ করি যে বাংলাদেশ সরকার ৯ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বসবাসের অনুমতি দিয়ে প্রশংসনীয় পন্থা নিয়েছে। এটি প্রকৃতপক্ষে বিশ্ব শরণার্থী সংকটে একটি বিশাল অবদান। অনুরোধ করছি যে, আপনি এই বিপজ্জনক সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর পরিস্থিতি বিবেচনা করে তার মানবিক এবং উন্নত স্বাস্থ্যের অধিকারকে সম্মান করুন এবং তাকে সর্বোচ্চ প্রাপ্য মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি দিন।’
এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে ওই চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তখন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চেয়ারপারসনের অবস্থা আবারও সংকটাপন্ন। দ্রুত তাকে বিদেশে না পাঠালে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।’
গত ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির পরপরই রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে দ্রুত ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমকে জানান যে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে ভুগছেন।