তাহসান শবনম ও মিথিলা পুলিশের নজরদারিতে

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির এক গ্রাহকের করা প্রতারণার মামলায় তিন অভিনয়শিল্পী শবনম ফারিয়া, রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও তাহসান রহমান খানকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পেলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এখনো তদন্ত চলছে।’

৪ ডিসেম্বর আদালতে মামলাটি করেন সাদ স্যাম রহমান নামে এক ব্যক্তি, যিনি ইভ্যালির গ্রাহক ছিলেন। পরে আদালত তদন্তের জন্য মামলাটি ধানম-ি থানায় পাঠিয়ে দেয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তাহসান, মিথিলা ও শবনম ফারিয়া ইভ্যালির সঙ্গে বিভিন্নভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং বাদী ওই কোম্পানির মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছেন।

ধানমন্ডি থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণামূলকভাবে টাকা আত্মসাতের জন্য অভিযুক্তরা ইভ্যালিকে সহায়তা করেছেনএমন অভিযোগ মামলায় আনা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিভিন্ন কথা এবং প্রমোশনাল কর্মকাণ্ডের কারণে বাদী ইভ্যালিতে বিনিয়োগ করেছেন এবং প্রতারিত হয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ওই গ্রাহক। মামলায় অন্য অভিযুক্তরা হলেন ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল, তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরীন, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আরিফ আর হোসাইন, মোহাম্মদ আবু তাইশ, আকাশ ও তাহের।

সাদ স্যাম রহমানের করা মামলার বিষয়টি প্রকাশ হয় বৃহস্পতিবার রাতে। এরপর গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই সাংবাদিকরা রমনা বিভাগের ডিসি সাজ্জাদুর রহমানের কার্যালয়ে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিসি সাজ্জাদুর বলেন, চটকদার বিজ্ঞাপন ও বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে ইভ্যালি হাজারো গ্রাহককে এরই মধ্যে পথে বসিয়েছে বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী। তার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির প্রতারণায় শুরু থেকে যুক্ত করা হয়েছিল নামী তারকাদের। জনপ্রিয় এসব মানুষের দেওয়া মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পা দিয়েই সর্বস্বান্ত হয়েছেন তারা।

ডিসি সাজ্জাদুর রহমান আরও বলেন, ‘মামলার এজাহারে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রতারণার মামলাটিতে ৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে গায়ক ও অভিনেতা তাহসানকে। ৮ ও ৯ নম্বর আসামি করা হয়েছে যথাক্রমে শবনম ফারিয়া ও মিথিলাকে।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছন, ইভ্যালি থেকে ৩ লাখ ১৮ হাজার টাকায় মোটরসাইকেল অর্ডার করেও পাননি তিনি।

মামলা ও পুলিশের বক্তব্যের বিষয়ে জানার জন্য তাহসান, মিথিলা ও শবনম ফারিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হয়। তবে তাদের প্রত্যেকের ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তাহসান খান গতকাল সকালে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ইভ্যালির জন্য কোনো বিজ্ঞাপনে শ্যুটিং করার বহু আগেই তিনি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছেন। ইভ্যালি সম্পর্কে তার ফেইসবুকে অনেক অভিযোগ পাওয়ার কারণে তিনি এ-সংক্রান্ত চুক্তিটি বাতিল করেন।

এ মামলাকে ‘পরিষ্কার হয়রানি’ হিসেবে বর্ণনা করে তাহসান খান বলেন, কোম্পানি কীভাবে কাজ করে সেটি একজন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার হিসেবে তার জানার কথা নয়। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আইনগত প্রক্রিয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। আমি বিশ্বাস করি, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে এটা প্রমাণিত হবে যে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার হিসেবে কোম্পানির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমরা কোনোভাবেই জড়িত নই।’

ইভ্যালির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হওয়ার পর ইভ্যালির ব্যবস্থাপনার জন্য অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি পাঁচ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ড গঠন করে দেয় উচ্চ আদালত। এই বোর্ডের প্রধান হিসেবে আছেন সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে অর্থ আত্মসাতের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তাদের গ্রেপ্তারের পর ইভ্যালির অফিসগুলো বন্ধের ঘোষণা দেয় কোম্পানিটি।