করোনাভাইরাসের টিকার বুস্টার ডোজ ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে দেওয়া শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, জাতীয় পরামর্শক কমিটির সুপারিশের অপেক্ষায় আছি। সুরক্ষা অ্যাপ আপডেট করার কাজ চলছে। আশা করা যাচ্ছে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এটা শুরু করা যাবে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বয়স্কদের বুস্টার ডোজ দেওয়া হচ্ছে। আমরাও বয়স্কদের বুস্টার ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ষাটোর্ধ্ব ও ফ্রন্টলাইনারদের বুস্টার ডোজ দেব। এ সময় ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে চলা জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়াতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক আবুল বাশার মো. খুরশিদ আলম বক্তব্য দেন।
এদিকে গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ (ঢাকা) শিশু হাসপাতাল প্রাঙ্গণে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। শুরু হওয়া এই ক্যাম্পেইন চলবে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী প্রায় ২৩ লাখ শিশুকে ১টি করে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ শিশুকে ১টি করে লাল রংয়ের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্রে এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তবে করোনার কারণে এবার বাস ও রেলস্টেশনগুলোতে ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র পরিচালনা বন্ধ থাকবে।
জাতীয় পুষ্টি সেবা ও জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজর (ডিপিএম) ডা. গাজি আহমাদ হাসান বলেন, প্রতিটা কেন্দ্র হেলথ ওয়ার্কারের সঙ্গে দুজন করে স্বেচ্ছাসেবক থাকবে। প্রত্যেক উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের তদারকি করতে স্বাস্থ্য সহকারী ও হেলথ ইন্সপেক্টর নিয়োজিত রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি এনজিও কর্মীরাও সহায়তা করবেন।
চিকিৎসকরা বলছেন, আগামী প্রজন্মকে সুস্থ ও সবল রাখতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের কোনো বিকল্প নেই। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুর জন্য নিরাপদ। শিশুর অন্ধত্ব থেকে রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ মৃত্যুঝুঁকি কমাতে ভিটামিন ‘এ’ অপরিহার্য। কোনো শিশু যেন ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানোর সরকারি এ কার্যক্রম থেকে বাদ না পড়ে, স্বাস্থ্য বিভাগ সেই উদ্দেশ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে কোনো পার্শপ্রতিক্রয়া না থাকলেও শিশুকে যেন খালি পেটে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে নিয়ে না যাওয়া হয়। ভরা পেটে কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, বুকের দুধ খাওয়ালে শিশুর শরীরে যত ধরনের ভিটামিন দরকার তার সব পাওয়া যায়।