স্বাগতিক হিসেবে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হকিতে অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে ঘরের মাঠে বড় কোনো স্বপ্ন নেই আশরাফুল ইসলাম, রাসেল মাহমুদ জিমিদের।
রবিবার পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে অধিনায়ক আশরাফুল যেমন বললেন, ‘টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলো র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে উপরে। তাই শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে আমরা জিতব বা ড্র করব বলাটা বাস্তবসম্মত হবে না। আমরা ম্যাচগুলোতে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাই। নিজেদের সেরাটা দিতে চাই। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’
এদিন পাকিস্তানের বিপক্ষে এগিয়ে গিয়েও ১-৩ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। মওলানা ভাসানি হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিক দলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন রকিবুল হাসান। পাকিস্তানের হয়ে গোল করেছেন যথাক্রমে আবু বকর, রানা ওয়াহিদ ও মুবাশির আলী।
এর আগে শুক্রবার প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে জাপানের কাছে ৪-১ ব্যবধানে হেরেছিল স্বাগতিকেরা।
১৪ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হকির। স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে আরো দুই দল- জাপান ও পাকিস্তান।
মালয়েশিয়ার খেলার কথা থাকলেও দলের এক খেলোয়াড়ের করোনা ধরা পড়ায় বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন করতে হয়েছে পুরো দলকে। সেই পর্ব পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে পৌঁছাতে টুর্নামেন্ট প্রায় অর্ধেক পার হয়ে যাবে। এ কারণে টুর্নামেন্ট থেকেই নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে দলটি।
১৫ ডিসেম্বর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসর শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর যথাক্রমে ১৭ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়া, ১৮ ডিসেম্বর জাপান ও ১৯ ডিসেম্বর পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশ অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম টুর্নামেন্টে নিজেদের লক্ষ্য প্রসঙ্গে বললেন, ‘স্বল্প সময়ের মধ্যে কোচ আমাদের দলটা প্রস্তুত করেছেন। এই প্রতিযোগিতায় হারানোর কিছু নেই। তবে অনেক কিছু অর্জনের সুযোগ রয়েছে।’
আশরাফুল আরো বলেন, ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ আমরা এগিয়ে যেতে চাই। প্রতিদিনই প্রতিপক্ষ দলগুলোর ভিডিও ফুটেজ দেখছি। এর আলোকে কোচ পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। প্রতিযোগিতার প্রতিটি ম্যাচেই আমরা উন্নতি করতে চাই। এখানে বিশ্বমানের দল ও খেলোয়াড়রা এসেছেন। তাদের কাছ থেকে আমরা অনেক কিছুই শিখতে পারি।’
বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ গোবিনাথ কৃষ্ণমূর্তি বলেন, ‘আমি মাত্র ১০ দিন কাজ করেছি। ১৪ মাস দল কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা খেলেনি। এখানে যে দলগুলো এসেছে তারা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে আছে। তাই আমাদের কাজটা বেশ কঠিন। তবে এটি নিশ্চিত আমাদের দল ও খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা দিবে।’
স্বাগতিক কোচ আরো বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতায় আমাদের সামনে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। আমি দলে কিছু নবীন খেলোয়াড় রেখেছি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্যই তাদের দলে রাখা হয়েছে। কারণ আগামী বছর বেশ কিছু প্রতিযোগিতা রয়েছে। আসরগুলোর জন্য নতুনরা এখান থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে। আশা করছি, এ প্রতিযোগিতা দিয়ে নতুনরা বিশ্বমানের প্রতিযোগিতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে।’