বাংলাদেশে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাব এবং এর সাবেক ও বর্তমান ছয় কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তাদের অভিযোগ কল্পনাপ্রসূত।
গতকাল রবিবার রাজধানীর বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জেলা ও দায়রা জজ এবং মহানগর দায়রা জজদের ২৬তম জুডিসিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
আনিসুল হক বলেন, ‘যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করে, তাদের একটা কর্তব্য থাকে, সেটা হচ্ছে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং যাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাদের আত্মপক্ষ বক্তব্য শোনার। আমার কাছে যতটুকু তথ্য আছে, যাদের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তাদের কথা শোনা হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। কোনো প্রকার আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ না দিয়েই এমন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এটাও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, যেসব দোষে র্যাব বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে দোষী করা হয়েছে তা ঠিক নয় এবং এটা কল্পনাপ্রসূত। দেশে কোনো বিচার বহির্ভূত হত্যাকা- হয়নি। বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিষয়টি সঠিক নয়।’
এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর আবেদন নিষ্পত্তির বিষয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত রয়েছে কি নাÑ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘একটু অপেক্ষা করুন, দেখবেন।’
গত সপ্তাহে বিচারকদের আরেকটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধনের পর আনিসুল হক বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিদেশ পাঠাতে আইনি উপায় খোঁজার কথা বলেন।
বিচারকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ বিচারের জন্য হাহাকার করছে। যখন তারা আদালতে বিচার পাবেন না, তখন কিন্তু বিচারের জন্য রাস্তায় নামবেন। আমরা কেউই এমন অবস্থা চাই না।’ এ সময় তিনি মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়াতে দুপুরে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়কে যথাযথ কাজে লাগানোর তাগিদ দেন বিচারকদের।
অনুষ্ঠানে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক আপিল বিভাগের প্রাক্তন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক গোলাম কিবরিয়া বক্তব্য দেন।