ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ছাত্রলীগের সম্মেলন ২৩ ডিসেম্বরের পর বিলম্বিত করা হলে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে অবরুদ্ধ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিভিন্ন হলের শীর্ষ পদ প্রত্যাশীরা।
তারা বলছে, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন সম্মেলনের ব্যাপারে আন্তরিক, কিন্তু ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চাচ্ছে না সম্মেলন হোক। সম্মেলনে বাধা দেওয়ায় জয়-লেখকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে অবাঞ্ছিত করাও হুমকি দেন তারা।
জানা গেছে, আগামী ২৩ ডিসেম্বর হল ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও জয়-লেখকের বাধায় ওই দিন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না সম্মেলন।
তারা নেতা কর্মীদের জানিয়েছেন, জানুয়ারিতে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর পর হবে হল সম্মেলন। তবে জানুয়ারিতেও সম্মেলন দেবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে নেতা কর্মীরা।
ছাত্রলীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছে, গত ৮ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের চার নেতা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকে ৩০ তম সম্মেলনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তারা হল সম্মেলন পেছাতে মরিয়া হয়ে উঠে। তারা ভাবছে হল সম্মেলন হলেই কেন্দ্রীয় সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে।
এদিকে দীর্ঘ দিন হল কমিটি না হওয়ায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে নেতা কর্মীরা। অনেক হলের শীর্ষ পদ প্রত্যাশীরা রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নেতা জানায়, দীর্ঘ দিন যাবৎ নেতাদের প্রটোকল দিয়ে আসছি। রাজনীতি করতে গিয়ে পড়াশোনা ক্যারিয়ার শেষ করে ফেলেছি। তারপরও নেতারা আমাদের জীবন নিয়ে খেলছে।
সূর্যসেন হলের এক নেতা বলেন, আমরা অনেক অপেক্ষা করেছি, আর নয়। ২৩ তারিখের পর সম্মেলন পেছানো হলে আমরা আন্দোলনে যাব।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, জয়-লেখক পদ হারানোর ভয়ে সম্মেলন দিচ্ছে না। তারা সংগঠনের থেকে নিজের চেয়ারকে বেশি ভালোবাসে। নেতা কর্মীরা আমাদের জানিয়েছে তারা আর অপেক্ষা করবে না। ২৩ তারিখের পর সম্মেলন পেছানো হলে তাদের মধুর ক্যানটিনে অবরুদ্ধ করবে। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাদের অবাঞ্ছিত করার ঘোষণাও দেবে তারা।
এ বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে কল দেওয়া হলে তারা কল রিসিভ করেননি।