নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) এক সিনিয়র শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) প্রক্টর বরাবর দেওয়া অভিযোগে এমবিএ ২০২৩-২৪ সেশনের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (MIS) বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নিহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ২ আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখে আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার দিকে শান্তি নিকেতন এলাকায় আইসিই (ICE) বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অধীর কুন্ড এবং মৃত্তিকা দাসকে ২০২০-২১ সেশনের পরিসংখ্যান (STAT) বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহিদুল ইসলাম রিন্তু ও তার সহযোগীরা অপদস্থ করেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, উক্ত ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে অভিযুক্ত মোহিদুল ইসলাম রিন্তু তার সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। একপর্যায়ে মারমুখী হয়ে তার সহযোগী ক্যাম্পাস ছাত্রদল কর্মী আরাফাত অয়ন, অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফাহিদ উদ্দিন আরাফাতসহ আরও অনেকে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
লিখিত অভিযোগে নিহারুল ইসলাম আরও বলেন, এ ঘটনায় তিনি বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি ঘটনাটি বিবেচনা করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।অভিযোগপত্রে তিনি প্রক্টরের কাছে উপরে বর্ণিত ঘটনার প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর আবেদন জানান।
অভিযোগ অস্বীকার করে মোহিদুল ইসলাম রিন্টু বলেন, ঘটনার দিন শান্তিনিকেতন এলাকায় অসাবধানতাবশত এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ধাক্কা লাগে। পরে বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। কিছুক্ষণ পর আমাকে ডেকে নেওয়া হলে সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। এ সময় পেছন থেকে কয়েকজন আমাকে ও আমার সঙ্গে থাকা অয়ন ভাইকে মারধর করেন। এতে অয়ন ভাইয়ের নাক ফেটে যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, “এই বিষয়ে আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
