মুরাদের বিরুদ্ধে মামলা খারিজ রাজশাহী ও ঢাকায়

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা রহমান সম্পর্কে অশ্লীল বক্তব্যের অভিযোগে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান ও মহিউদ্দিন হেলাল নাহিদসহ দুজনের বিরুদ্ধে ঢাকায় ও রাজশাহীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। গত রবিবার এ দুটি মামলার আবেদন জমা পড়ার পর গতকাল সোমবার এমন সিদ্ধান্ত আসে সংশ্লিষ্ট দুটি আদালত থেকে।

একই অভিযোগে মুরাদের বিরুদ্ধে গতকাল ময়মনসিংহ ও সিরাজগঞ্জের আদালতে নতুন করে আরও দুটি মামলার আবেদন জমা পড়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকরা মামলা দুটি আমলে নিয়ে আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন। এদিকে কানাডা ও আরব-আমিরাতে প্রবেশে ব্যর্থ হয়ে ঢাকায় ফিরে আসা সাংসদ মুরাদ হাসান নিজের ধানমন্ডির বাসায় ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে কথা বলছেন না।

মুরাদের বিরুদ্ধে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে করা মামলার আবেদন গতকাল খারিজ করেন বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেন। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম শামীম এ তথ্য জানিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, মামলাটি গ্রহণের উপাদান না থাকায় আদালত তা খারিজের নির্দেশ দেয়। অন্যদিকে এ ঘটনায় মামলা হতে পারে না জানিয়ে গতকাল আবেদন খারিজ করে দেন রাজশাহীর সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জিয়াউর রহমান।

এর আগে গত রবিবার জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা ওমর ফারুক ফারুকী ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলার আবেদন জমা দেন। তবে বিচারক না থাকায় শুনানি হয়নি। গতকাল সকালে বাদীপক্ষে শুনানি করেন মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদেশ পরে দেবে বলে জানায়। এরপর বিকালে আদালত মামলাটি খারিজের আদেশ দেন। রাজশাহীতে একই দিন মামলাটি করেন বগুড়া আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম।

মুরাদের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ ও সিরাজগঞ্জে মামলার আবেদন : মুরাদ ও নাহিদের বিরুদ্ধে গতকাল ময়মনসিংহে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার আবেদন করা হয়েছে। গতকাল সকালে ময়মনসিংহ সাইবার ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম চৌধুরী এই আবেদন করেন। ট্রাইবুনালের বিচারক মোহা. বজলুর রহমান আবেদন গ্রহণ করে আদেশের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণের জন্য রেখে দেন।

এদিকে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ বিল্লাল হোসাইনের আদালতে গতকাল মুরাদের বিরুদ্ধে একটি মামলার আবেদন করেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু। বাদীপক্ষের আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ সাহা জানান, বিচারক মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন মামলাটি গ্রহণ করে আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন।

আসেননি জনসমক্ষে : কানাডা ও আরব-আমিরাতে প্রবেশে ব্যর্থ হয়ে ঢাকায় ফিরে আসা সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও সাংসদ ডা. মুরাদ হাসান নিজের ধানমন্ডির বাসায় ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে কথা বলছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, রবিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল দিয়ে একটি গাড়িতে করে বেরিয়ে যান তিনি। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল তিনি তার ধানমন্ডির নিজের বাসায় যাবেন, যেটা তিনি নিজের হাতে কদিন আগেই সাজিয়েছেন। রাতেও তিনি সেখানে যাননি। পরে শোনা যায় তিনি তার এক ভাইয়ের বাসায় উত্তরায় আছেন। সোমবারও সেখানে খোঁজ নেওয়া হয়েছে কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি।

জাইমা রহমান সম্পর্কে করা মন্তব্য ফেইসবুকে প্রচারের এক দিন পরই চলচ্চিত্র নায়ক ইমন ও নায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে ডা. মুরাদের একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। ওই ফোনালাপে মাহিকে অশালীন কথাবার্তা বলতে শোনা যায় তাকে। এরপর মুরাদকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ডা. মুরাদ সেই নির্দেশনা মেনে পদত্যাগ করেন। এরই মধ্যে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সম্পাদক পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয় তাকে।

এদিকে, মন্ত্রিত্ব ও জেলা আওয়ামী লীগের পদ হারানোর পর ডা. মুরাদ দেশত্যাগ করেন। তিনি কানাডার পথে রওনা দিলেও শেষ পর্যন্ত কানাডায় প্রবেশ করতে পারেননি। সেখান থেকে তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়। পরে গত রবিবার রাতে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন ডা. মুরাদ।

এই প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন ঢাকার নিজস্ব ও আদালত প্রতিবেদক এবং সংশ্লিষ্ট জেলার নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা।