ভিন্নমতাবলম্বী অনেক নাগরিককে জেলে পাঠানো সৌদি আরবে সম্প্রতি তরুণদের ‘মুক্তচিন্তায় উৎসাহিত’ করতে দর্শনের ওপর একটি বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে আরব নিউজ। রিয়াদে গত সপ্তাহে হওয়া তিনদিনের এই সম্মেলনে বিশ্বের নামি অনেক অধ্যাপক অংশ নিয়েছেন; তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দার্শনিক মাইকেল সান্ডেলও ছিলেন।
ভার্চুয়ালি উপস্থিত হয়ে হার্ভার্ডের এ অধ্যাপক সম্মেলনের আয়োজকদের বলেন, তিনি লেকচার দিতে চান না, তার বদলে সৌদি তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান। কিং ফাহাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরির কনফারেন্স সেন্টার থেকে ইউটিউবে সরাসরি সম্প্রচারিত এই সেশনে সান্ডেল সৌদি আরবের চার শিক্ষার্থীর সঙ্গে ক্রিটিকাল রিজনিং ও নৈতিক দর্শন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতাবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলার চর্চা যে দেশে নেই বললেই চলে সেখানে এই ধরনের আয়োজন বেশ অস্বাভাবিক।
সান্ডেল করোনাভাইরাস মহামারী প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্কে শিক্ষার্থীদের প্ররোচিত করেন; তারপর একটি নৈতিক প্রশ্নের দিকে আলোচনা ঘুরিয়ে নেন। প্রশ্নটি হচ্ছে; খুনি কারও আত্মীয় হলে, তার কি উচিত খুনিকে ধরিয়ে দেওয়া, নাকি বাঁচানো? এর উত্তরে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এমনকি বাবা যদি খুনি হয়, তাহলে তাকেও ধরিয়ে দেব।’ তার এই উত্তরে উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বড় অংশই করতালি দেয়। শিক্ষার্থী যখন এ উত্তর দিচ্ছিলেন, তখন কনফারেন্স সেন্টারে তার বাবাও উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের হাত আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রিয়াদ অবশ্য শুরু থেকেই খাশোগি হত্যাকাণ্ডে ক্রাউন প্রিন্সের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা, সৌদি ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক খাশোগিকে ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর হত্যা করা হয়। এর বাইরেও সৌদি আরবে ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর অসংখ্য নজির আছে।
গত মাসেও এক সৌদি নাগরিককে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মত প্রচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ইয়েমেনি এক সাংবাদিককে দেওয়া হয়েছে ১৫ বছরের কারাদণ্ড। ‘ডি ফ্যাক্টো’ শাসক মোহাম্মদ বিন সালমানের আমলে ইসলাম প্রচারক থেকে শুরু করে লুজাইন আল-হাথলুলের মতো নারী অধিকার কর্মী, অনেককেই কারাগারে যেতে হয়েছে।
সৌদি আরবে দর্শন সম্মেলেনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে সান্ডেল পরে বিবিসিকে বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া তাকে মুগ্ধ করেছে। যাদের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে তারা কেউই দর্শন নিয়ে পড়েনি, অথচ নৈতিক প্রশ্ন নিয়ে বিতর্কে তাদের ক্ষুধা তাকে চমকে দিয়েছে।