কুয়েট শিক্ষক সেলিমের লাশ তোলা হবে আজ

ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেনের লাশ কবর থেকে তোলা হবে আজ বুধবার। পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সকাল ৮টায় লাশ তোলা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান তালুকদার এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘খুলনার আদালত আদেশ দিলেও আজ (গতকাল) সংশ্লিষ্টরা কুষ্টিয়ায় পৌঁছতে দেরি করেন এবং রাত হয়ে যাওয়ায় লাশ তোলা হয়নি। বুধবার লাশ তুলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে ওই কবরেই দাফন করা হবে।’

এদিকে কুয়েটের জনসংযোগ ও তথ্য শাখার মুখপাত্র রবিউল ইসলাম জানান, গত রবিবার রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা হয়। সেখানে বিদ্যালয় বন্ধের মেয়াদ ১০ দিন বাড়িয়ে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। অধ্যাপক সেলিম হোসেনের ‘অস্বাভাবিক মৃত্যুর’ ঘটনা তদন্তে গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটির সুপারিশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমাদ বলেন, ‘তদন্তকাজ শেষ করে প্রতিবেদন দিতে আমরা আরও ১০ দিন সময় চেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। এ সময় পর্যন্ত ক্যাম্পাসও বন্ধ থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘অভিযুক্ত ছাড়াও প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিয়ে মতামত নেওয়া হচ্ছে। কুষ্টিয়া গিয়ে ড. সেলিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।’

তদন্ত কমিটির সদস্য ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবাশীষ বসাক জানান, আদালত লাশ উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে। লাশ তোলার পর ময়নাতদন্ত করা হবে।

কুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রতীক চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ড. সেলিমের পরিবারের সঙ্গে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে তাদের সব ধরনের সহায়তা করা হবে।

গত ৩০ নভেম্বর বেলা ৩টার দিকে ড. সেলিম হোসেনের মৃত্যু হয়। কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে তাকে কুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েক নেতাকর্মী মানসিক নির্যাতন করেন। এ ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানসহ নয় শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।