একমাত্র বিদেশি বীরপ্রতীক উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ড

চাকরির সুবাদে বাংলাদেশে এসে জড়িয়ে গিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। পরিচিতি আর বিশ্বস্ততাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে গড়ে নিয়েছিলেন নিজস্ব জগৎ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে তার অফিস আর কারখানা হয়ে উঠেছিল এক টুকরো প্রশিক্ষণ শিবির। বীরপ্রতীক উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ডকে নিয়ে লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা 

উইলিয়াম আব্রাহাম সাইমন ওডারল্যান্ড

১৯৭০ সাল। বছরের শেষ দিকে বাটা শু কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নেদারল্যান্ডস থেকে ঢাকায় আসেন উইলিয়াম আব্রাহাম সাইমন ওডারল্যান্ড। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে পুরো ভারতজুড়ে বাটার বিপুল চাহিদা। কোম্পানির অবস্থা রমরমা। অত্যন্ত কর্মীবান্ধব মানুষ ছিলেন ওডারল্যান্ড। বাটায় কর্মরত সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই তাকে খুবই ভালোবাসত। বাটার ব্যবসায়িক সাফল্যের কৃতিত্বও তিনি একা নিতেন না। তার নেতৃত্বগুণে মাত্র ৩ মাসের মাথায় প্রোডাকশন ম্যানেজার থেকে নির্বাহী পরিচালক হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ভুট্টোর সঙ্গে আঁতাত করে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করে। এ ঘোষণায় ফেটে পড়ে পূর্ব বাংলার মানুষ। বঙ্গবন্ধুর ডাকে দিকে দিকে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। টঙ্গীর বাটা কোম্পানির কারখানাতেও এর প্রভাব পড়ল। একাত্তরের ৫ মার্চে টঙ্গী মেঘনা টেক্সটাইল মিলের সামনে শ্রমিক জনতার মিছিল শুরু হয়। সে মিছিলে পাকিস্তানি প্রশাসনের নির্দেশে ইপিআর গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে ৪ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়। স্বচক্ষে এ হত্যাকাণ্ড ও তাণ্ডব দেখে নিজেকে আর স্থির রাখতে পারলেন না। এক শব্দও বাংলা বুঝতেন না তিনি। তবে সাহস আর উদ্দীপনা বোঝার জন্য তো আর ভাষার দরকার হয় না। মুক্তিযুদ্ধের উদ্দীপনা তাকেও ছুঁয়ে যায়। একটি দেশের স্বাধীনতা আর মুক্তির আকাক্সক্ষা তিনি এড়িয়ে যেতে পারেননি। টঙ্গীর অসহায় কর্মীর মুখ, স্বচক্ষে দেখা হত্যাকাণ্ড তাকে বিচলিত করে তোলে। ২৫ মার্চ কালরাতে ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোয় নারকীয় গণহত্যা চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। ২৫ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দিলেন। ২৫ মার্চ কালরাতে ঢাকায় হানাদার বাহিনীর গণহত্যা দেখে খুবই মর্মাহত হলেন তিনি।

তার মনে পড়ে গেল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি। সে সময় চোখের সামনে চলমান নাৎসি বাহিনীর বর্বরতা ও নৃশংসতা দেখেছিলেন। ২৯ বছর পর মুক্তিযুদ্ধের সময়ের বীভৎসতা আর নির্মমতা যেন তার সৈনিক জীবনের স্মৃতিকে মøান করে দিচ্ছিল। প্রথমদিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংস নির্যাতন ও গণহত্যার আলোকচিত্র তুলে গোপনে বহির্বিশ্বের গণমাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি। বহু গণমাধ্যমে তার এক পর্যায়ে কৌশল পরিবর্তন করেন তিনি। ছবি তোলার বদলে নিজেই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেন। শুরু করলেন নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে গেরিলা প্রশিক্ষণের কাজ।

বেড়ে ওঠা

১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতৃপুরুষের বাস ছিল অস্ট্রেলিয়ায়। তেমন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পাননি তিনি। ১৭ বছর বয়সে তাকে জীবিকার তাগিদে পড়াশোনা থেকে সরে আসতে হয়। জুতা পালিশের কাজ শুরু করেন। ১৯৩৪ সালে যোগ দেন বাটা শু কোম্পানিতে। দু’বছর পর চাকরি ছেড়ে দেন। নিজ ভূমি নেদারল্যান্ডসের জাতীয় সামরিক বাহিনীতে নাম লেখান তিনি। পরে রাজকীয় সংকেত বিভাগে (রয়্যাল সিগন্যাল কোর) সার্জেন্ট পদে নিযুক্ত হন। তার দলে ৩৬ জন সদস্য ছিল। ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদেই কর্মরত ছিলেন। এরপর ওলন্দাজ বাহিনীর গেরিলা কমান্ডো হিসেবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। হিটলারের জার্মান বাহিনীর মুখোমুখি হয় তার দল। হিটলার বাহিনীর প্লাটুন অত্যাধুনিক ট্যাংক ও ভারী অস্ত্রে সজ্জিত। অথচ এই বাহিনীর বিপরীতে তার দলের লোকদের কাছে ছিল শর্ট রাইফেল ও মাত্র বারো রাউন্ড গুলি। এরইমধ্যে নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স ও বেলজিয়াম দখলে নিয়ে নেয় জার্মানি। ওলন্দাজ জাতীয় দলে থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংক্ষিপ্ত কারাবাস শেষে বন্দিদশা থেকে পালিয়ে যান তিনি। এরপর জার্মানি থেকে ফেরত আসা সৈন্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে নিযুক্ত হন। ওডারল্যান্ড জার্মান ও ওলন্দাজ দুটো ভাষাতেই পারদর্শী ছিলেন। জার্মানির বিরুদ্ধে ওলন্দাজ প্রতিরোধের একনিষ্ঠ গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধে অবদান

বাটা শু কোম্পানির মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে প্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজের সুবাদে পশ্চিম পাকিস্তানে অবাধ যাতায়াত ছিল ওডারল্যান্ডের। এ সুবিধাকে ভিন্নভাবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। ওলন্দাজ গুপ্তচর হিসেবে কাজ করার স্মৃতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠল তার। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর নীতিনির্ধারণী মহলে অনুপ্রবেশ করলেন তিনি। নিজ থেকেই বাংলাদেশের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি শুরু করেন। প্রথমে ঢাকা সেনানিবাসের ২২ বেলুচ রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল সুলতান নেওয়াজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন তিনি। সেই সুবাদে সেনানিবাসে অবাধ যাতায়াত শুরু হয় তার। সেনাবাহিনীতে তার পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লা খান নিয়াজি, মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলিসহ আরও অনেক সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে হৃদ্যতা গড়ে ওঠে তার। নিয়াজির ইস্টার্ন কমান্ড হেডকোয়ার্টার তাকে সম্মানিত অতিথি হিসেবে সম্মানিত করে। এ সুযোগে তিনি সব ধরনের নিরাপত্তা ছাড়পত্র সংগ্রহ করে নেন। এতে করে সেনানিবাসে যখন তখন যাওয়া আসায় তার আর কোনো বাধা থাকে না। কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে, সেনাবাহিনীর সামরিক অফিসারদের আলোচনা সভায় অংশগ্রহণের সুযোগও পেয়ে যান তিনি। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গোপন সংবাদ সংগ্রহ করা শুরু করেন তিনি। সংগৃহীত সব তথ্য তিনি গোপনে পাঠিয়ে দিতেন ২ নম্বর সেক্টরের ক্যাপ্টেন এটিএম হায়দার ও জেড ফোর্সের কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানের কাছে।

১৯৯৭ সালে ফরিদি নামের একজন মুক্তিযোদ্ধাকে লেখা এক চিঠিতে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের মার্চ মাসেও পাকিস্তানি বাহিনীর ট্যাংক ঢাকায় ঢুকে পড়তে শুরু করে। আর আমিও পেছনে ফেলে আসা দিনের স্মৃতিচারণ করছিলাম। বাঙালির দুর্দশা আমাকে তাদের পক্ষে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে। পাকিস্তানি হানাদার জান্তার নির্বিচার ও নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ডের ফলে পরের সপ্তাহে হাজার হাজার বাঙালি মারা যায়। আমি ওটা অনুভব করেছিলাম। এখানে কী ঘটছে সে সম্পর্কে সচেতন করতে সংঘটিত নৃশংসতার ছবি তুলতে পেরেছি। পাকিস্তানিরা নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলেছে, এদের মধ্যে ছোট ছোট শিশুও রয়েছে। বিশ্ববাসীর কাছে মানুষের দুর্দশার কথা তুলে ধরতে আমি এই ছবিগুলো তুলেছিলাম। অসহ্য যন্ত্রণা ও নৃশংসতা গভীরভাবে ছুঁয়ে যায় আমাকে। গোপনে বাটা টঙ্গী আর সেক্টর ১ ও ২-এর চারপাশের সাহসী বাঙালিদের নিয়ে গেরিলা আন্দোলন শুরু করি। একটি আন্তর্জাতিক কোম্পানির প্রবাসী সিইও হিসেবে আমাকে পাকিস্তানি হাইকমান্ডের আজ্ঞাবহ হয়ে থাকতে হয়েছে। এটি আমাকে বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতে সক্ষম করে। আমি তাদের গেরিলা প্রশিক্ষণ দিই। বাঙালির প্রতি আমার গভীর ভালোবাসা ও অনুরাগের ফলে এসব পদক্ষেপ নেওয়া সক্ষম হয়েছিল। আমার বলার মতো আরও অনেক কিছু আছে। বিস্তারিতভাবে আমি সেগুলো বলতেও চাই। তবে এটি এখন প্রায় অসম্ভব কারণ আমি প্রায় অন্ধ। আমার তোলা ছবি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নৃশংসতার ক্যাটালগ। এই অ্যালবাম ঘিরে আছে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী নৃশংসতার বহু চিত্র ও বাঙালির অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। কিছু বীর মুক্তিযোদ্ধার ছবিও অন্তর্ভুক্ত আছে এতে।’

গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ, আর্থিক সহায়তাসহ আরও নানাভাবে সাহায্য করতেন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গেরিলা কমান্ডো হিসেবে স্বীয় অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে ২ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। কমান্ডো হিসেবে তিনি ছিলেন অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ। এক পর্যায়ে তিনি নিজেই জীবন বিপন্ন করে যুদ্ধে নেমে পড়লেন। বাঙালি যোদ্ধাদের নিয়ে টঙ্গী-ভৈরব রেললাইনের ব্রিজ, কালভার্ট ধ্বংস করে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করতে থাকেন। তার পরিকল্পনায় ও পরিচালনায় ঢাকা ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় বহু অপারেশন সংঘটিত হতে থাকে। মেজর হায়দারের দেওয়া এক সনদপত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়, ওডারল্যান্ড মুক্তিযুদ্ধে গণযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, নগদ অর্থ, চিকিৎসা সামগ্রী, গরম কাপড় ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছেন।

এর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের গোড়ার দিকে বাংলাদেশে পাক বাহিনীর নৃশংস নির্যাতন ও গণহত্যার আলোকচিত্র তুলে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশাল অবদান রাখেন। পাক বাহিনীর গণহত্যা দেখে ইউরোপে কাটানো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নৃশংস অভিজ্ঞতার স্মৃতি ফিরে ফিরে আসছিল তার। ফলে ছবি তোলাকে একপাশে রেখে সরাসরি যুদ্ধে নেমে পড়তে বাধ্য হন তিনি। 

যুদ্ধকালে তিনি প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানীর সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখতেন। ঢাকায় অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান ডেপুটি হাইকমিশনের গোপন সহযোগিতা পেতেন তিনি। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়ার ঢাকায় ফিরে তিনি আবার পুরনো কর্মস্থল বাটায় যোগ দেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ ছেড়ে সবাই চলে গেলেও তিনি বসবাসের জন্য এ দেশকেই বেছে নিয়েছিলেন। ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত এ দেশেই ছিলেন তিনি। পরে বাটার পক্ষ থেকে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বদলি করা হয়। সেখানেই স্থায়ী হন তিনি। ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে ৮৪ বছর বয়সে আয়ুরেখা থেমে যায় তার।

স্বীকৃতি

মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ও অসামান্য নৈপুণ্যের জন্য পরে বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরপ্রতীক সম্মাননায় ভূষিত করে। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরপ্রতীক পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় তার নাম ২ নম্বর সেক্টরের গণবাহিনীর তালিকায় ৩১৭ নম্বর। ১৯৯৮ সালের ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী কর্র্তৃক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে ওডারল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু অসুস্থ থাকায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি। বাংলাদেশের প্রতি ছিল তার অসামান্য টান তাই বীরপ্রতীক পদকের সম্মানীর টাকাও দান করে গেছেন মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে। একমাত্র বিদেশি হিসেবে তাকে বাংলাদেশ সরকার এই খেতাবে ভূষিত করেছে। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত অত্যন্ত গর্ব ভরে ও শ্রদ্ধার্ঘ্য চিত্তে নামের সঙ্গে বীরপ্রতীক খেতাবটি লিখেছিলেন তিনি।

বাংলাদেশে ২০১৬ সালে ওডারল্যান্ডকে নিয়ে তথ্যচিত্র তৈরি করা হয়েছে। ‘বীরপ্রতীক ওডারল্যান্ড’ নামের এ তথ্যচিত্রটি পরিচালনা করেছেন মাহবুবুর রহমান। এছাড়াও তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ গুলশানের একটি

রাস্তার নামকরণ করা হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বাংলাদেশি গেরিলাদের সহায়তা করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে দিয়েছেন সেক্টর কমান্ডারদের কাছে। তিনি জানতেন তার কাজটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। তারপরেও কেন তিনি এ কাজ করে গেছেন? গণহত্যা শুরু হলে যখন বেশিরভাগ বিদেশি বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যান তখন তিনি কেন এ দেশকেই বেছে নিয়েছিলেন? এ রকম আরও অনেক প্রশ্নের জবাব আমরা পাব না। তার নিঃস্বার্থ কাজের ফলাফল হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে এই দেশ।