বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর দিন গতকাল স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে একটি মাইক্রোবাস নিজে চালিয়ে গাজীপুর থেকে শরীয়তপুর তাদের গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন আবুল হাসান। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর দক্ষিণখান রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ঢাকাগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ছিটকে পড়ে মাইক্রোবাসটি। এতে আবুল হাসানের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু (২৬) ও দুই বছরের পুত্রসন্তান শোয়াইব নিহত হন। এ ঘটনায় আবুল হাসান (৪০) ও তার ছয় বছরের কন্যাসন্তান গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রেলক্রসিংটিতে কোনো গেটম্যান ছিল না বলে জানা গেছে। অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের কারণে গত ৪ ডিসেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত আটজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটল। ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে তিনজন, ৫ ডিসেম্বর নরসিংদীর রায়পুরায় একজন, ৬ ডিসেম্বর নাটোরের রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় একটি ট্রাক দুমড়ে-মুচড়ে গেলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে পরদিন ৭ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনায় দুজন নিহত হন। এরপর গতকাল মা ও শিশুর ঘটনা ঘটল।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে রেলওয়ের কমলাপুর থানার ওসি মো. মাজহারুল হক জানান, হাসান রেন্ট-এ কার কোম্পানির মাইক্রোবাস চালান। গতকাল ভোরে তিনি স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বের হয়েছিলেন। বাসার কাছেই রেলগেট পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা তারিকুল ইসলাম রায়হান জানান, এমনিতেই ওই রেলগেটে একাধিক গেটম্যান দায়িত্ব পালন করেন। তবে ভোরের দিকে গেট খোলা ছিল। আর মাইক্রোবাসটি বিনা বাধায় লাইনে উঠে পড়ে।
আহত আবুল হাসান বলেন, দুর্ঘটনার আগে রেলক্রসিংয়ের ব্যারিয়ার তোলা ছিল বলে তিনি মাইক্রোবাস নিয়ে ক্রসিং পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
ধীরাশ্রম রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. হেলালউদ্দিন জানান, ঘন কুয়াশার মধ্যে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন মাইক্রোবাসটির পেছন দিকে ধাক্কা দেয়।