স্বাধীনতার ৫০ বছরে জনগণ কিছু পায়নি : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, ‘স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে জনগণ কিছুই পায়নি, বরং অধিকার বঞ্চিত হয়েছে। দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একটা বিধান ছিল সেটাও বাতিল করা হয়েছে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন।

এর আগে সকালে বিএনপি মহাসচিব দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখানে এখন নির্বাচন ব্যবস্থা নেই, যে নির্বাচন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জনগণ তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে, ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। দেশের মানুষ এখন ভোট দিতে পারে না। এখানে দারিদ্র্য আরও বেড়েছে, মানুষ গরিব থেকে গরিব হয়েছে। একটা শ্রেণির মানুষ যারা আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট তারা ধনী হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরের সবচেয়ে বড় লজ্জা হিসেবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানে (র‌্যাব) বর্তমান ও সাবেক সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা। আমরা মনে করি যে, এটা হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় লজ্জা। এই পঞ্চাশ বছর পরে আমাদের একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নিষেধাজ্ঞা পেতে হচ্ছে। তাছাড়া আমরা গণতন্ত্রের বাইরের একটি রাষ্ট্র সেটাকে আজ বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। যেটা আমাদের জন্য লজ্জা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজ যারা ক্ষমতা দখল করে বসে আছে তাদের কারণেই এই অবস্থা বাংলাদেশের আজ হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজ ৫০ বছর পরেও আমরা যে একটা স্বাধীন ও মুক্ত বাংলাদেশের যুদ্ধ করেছিলাম, লড়াই করেছিলাম, সেই স্বাধীন ও মুক্ত বাংলাদেশ আমরা এখন দেখছি না। আমরা দেখছি যে, একটা কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিবাদী সরকার, তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জোর করে ক্ষমতা দখল করে এখানে একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তন করার জন্য কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘আজ আমরা এখানে শপথ নিয়েছি যে, এদেশে সমস্ত জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে, সমস্ত রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে জনগণের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে পরাজিত করে এখানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করব। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব এবং একটা মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।